সাধারণত কমনওয়েলথ গেমসের রিংয়ে নামার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়ে থাকে প্রত্যেক বক্সারের। নিয়ম হিসেবে এটাই প্রচলিত। আর সেখানেই কপাল পুড়েছে বাংলাদেশের সুর কৃষ্ণ চাকমার। তার দুর্ভাগ্য যে খেলার দিনই রক্তচাপ বেশি হওয়ায় রিংয়ে নামার অনুমতি পাননি!
এ বিষয়ে দলের চিকিৎসক শফিকুর রহমান ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম থেকে বলেছেন, ‘আসলে এটা ওর দুর্ভাগ্য বলতে হবে। ইভেন্টের দিন সকালে রুটিন মেডিকেল চেকআপে ওর উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে। এরপর ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম দিয়ে ফের পরীক্ষা করলেও রক্তচাপ বেশি আসে বলে ওকে খেলতে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। পরে ওকে অন্য ক্লিনিকে চেকআপ করা হলেও কোনও কিছুর হেরফের হয়নি।’
যদিও একঘণ্টা পর সুরো কৃষ্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছিলেন। কিন্তু সময় পার হয়ে যাওয়ায় ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। শফিকুর রহমান আরও বলেছেন, ‘গেমসের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের আগে মেডিকেল টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হয়। সেটা তিনি করতে পারেননি। হয়তো মানসিক দিক দিয়ে তার ভীষণ অস্থিরতা কাজ ছিল। যে কারণে রক্তচাপ বেশি ছিল।’
যে ইভেন্টটায় সুরো কৃষ্ণ চাকমার খেলা কথা, স্বাভাবিকভাবেই তাতে খেলতে না পারায় মন ভেঙে যায় তার। তবু এই ভাঙা মন নিয়েই নিজের ইভেন্টের খেলা দেখেছেন। আক্ষেপ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ঘুম থেকে ওঠে নাস্তা করে মেডিকেল টেস্ট যখন দেই, তখন কোনও সমস্যা হয়নি। অথচ ডাক্তাররা প্রেসার মেপে বেশি পেয়েছে। দ্বিতীয়বারের পরীক্ষাতেও বেশি আসায় আমাকে খেলার অনুমতি দেয়নি।’
এরপরই দেশসেরা অন্যতম বক্সার যোগ করেন , ‘অথচ কিছুক্ষণ পরেই আমার প্রেসার স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। এখন ভাঙা মন নিয়ে আমার ইভেন্টের খেলা দেখছি। এটা দুর্ভাগ্য না তো কী? কোনও নার্ভাসনেস কাজ করেনি আমার মধ্যে। গতকাল রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার কারণেই হয়তো এমনটা হয়েছে।’









