এশিয়া কাপে ১৮৪ রানের লক্ষ্য দিয়ে লঙ্কানদের চাপে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কা ৪৮ রান তুলে নিলেও ২ উইকেট ফেলতে পেরেছে। পরে পতন হয়েছে আরও দুই উইকেটের। ১১ ওভার শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৮৮ রান। ক্রিজে আছেন কুশল মেন্ডিস (৪৫) ও দাসুন শানাকা (২)।
শুরুতেই মারাত্মক ভুল করে বসেন মুশফিক। তাসকিনের দ্বিতীয় ওভারে কুশল মেন্ডিসের ক্যাচ ফেলেছেন। দুইবার চেষ্টা করেও বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি। যার খেসারত দিতে হয় পরে। সাকিবের পঞ্চম ওভারে এই মেন্ডিসই হাত খুলে মেরে দুটি ছয়ের সঙ্গে মারেন একটি বাউন্ডারি। মনে হচ্ছিল পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ৫৫ রানও তারা টপকে ফেলবে। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে এবাদত এসে রাশ টেনে ধরেন। অভিষেক ম্যাচে জোড়া আঘাতে চাপে ফেলে দেন লঙ্কানদের। শুরুতে উইকেট নেন পাথুম নিসাঙ্কার। তৃতীয় ডেলিভারিটি শর্ট লেংথে করেছিলেন। পুল করতে গিয়ে লঙ্কান ব্যাটার তালুবন্দি হয়েছেন ২০ রানে। শেষ বলে নতুন নামা আসালাঙ্কাকেও ১ রানে তালুবন্দি করালে পাওয়ার প্লেতে চাপে পড়ে যায় লঙ্কানরা।
অবশ্য সপ্তম ওভারে কিছুটা নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছিল। কুশল মেন্ডিসকে গ্লাভসবন্দি করিয়েছিলেন শেখ মেহেদী। কিন্তু নো বল হওয়ায় জীবন পেয়ে যান তিনি। তবে অষ্টম ওভারে এসে এবাদত আবারও বিপদে ফেলেন লঙ্কানদের। আরেকটি শর্ট বল দিয়ে গুনাথিলাকাকে (১১) তালুবন্দি করেছেন। একই ওভারে তৃতীয় জীবন পান সেই মেন্ডিসই। তবে বাংলাদেশের ভুলে। এবাদতের বল তার গ্লাভসে লেগে কিপারের কাছে গেলেও বাংলাদেশ রিভিউ-ই নেয়নি।
এই সময় অপরপ্রান্ত নড়বড়ে থাকলেও জীবন পাওয়া মেন্ডিস স্কোরবোর্ড সচল রাখতে পেরেছেন। অষ্টম ওভারে আবারও সঙ্গী হারা হতে হয় তাকে। নতুন নামা রাজাপাকশে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তাসকিনের বলে। ৪ বলে ২ রান করতে পারেন তিনি।
এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। সুপার ফোরে যেতে হলে এই ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই। টস হেরেও ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করেছে ১৮৩ রান। যা আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে লাল-সবুজদের রেকর্ড সংগ্রহও।
শুরুর ওভারে দারুণ শুরুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও সাব্বির প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। তৃতীয় ওভারেই ৫ রানে ফিরেছেন। তবে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রান উঠে প্রত্যাশা মতোই। যার পেছনে বড় অবদান মেহেদী হাসান মিরাজের। এসময় ১ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৫।
মিরাজকে ওপেনিংয়ে নামানোর বাজিটাই কাজে দিয়েছে শেষ পর্যন্ত। চতুর্থ ওভারে ছক্কা মেরে পঞ্চম ওভারে তুলেছেন ১৮টি রান। অভিষিক্ত আসিথার এই ওভারটিতে একটি ছয়ের বিপরীতে মারেন দুটি চারও। ষষ্ঠ ওভারেও আসে ৮টি রান। তাতে পাওয়ার প্লের পুরো ফায়দা নিয়ে নেয় তারা।
পাওয়ার প্লের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের পর সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন হাসারাঙ্গা। এসেই মিরাজকে বিপদে ফেলেছিলেন। এলবিডাব্লিউর আবেদন উঠেছিল। পরে রিভিউতেও সফলতা মেলেনি শ্রীলঙ্কার। কিন্তু পঞ্চম বলে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ২৬ বলে ৩৮ রান করা মিরাজ দারুণ এক বলে বোল্ড হয়েছেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছয়।
অষ্টম ওভারে মুশফিকুর ৪ রানে ফিরলে ছন্দপতন ঘটে ইনিংসে। করুনারত্নের বাউন্সি বল ব্যাক ফুটে ডিফেন্ড করতে গিয়ে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন। পরে অবশ্য এই ছন্দপতন কাটিয়ে উঠতে দারুণ অবদান রাখেন সাকিব। দশম ওভারে তিনটি চার মেরে স্কোরটাকে ৮৫ রানে নিয়ে গেছেন। কিন্তু ১১তম ওভারে থিকশানার ঘূর্ণিতে আর টিকে থাকতে পারেননি। বোল্ড হয়ে ২৪ রানে ফিরেছেন। তার ২২ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার।
সাকিবের বিদায়ে কিছুটা চাপ বাড়লেও সেটি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠা গেছে মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেনের টি-টোয়েন্টি সুলভ ব্যাটিংয়ে। বিশেষ করে আফিফ হোসেন দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোক খেলে রানের চাহিদা মিটিয়েছেন। যোগ্য সঙ্গী হয়েছেন মাহমুদউল্লাহও। ৩৭ বলে তাদের ৫৭ রানের জুটি এক পর্যায়ে আরও বড় স্কোরের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
১৭তম ওভারে আফিফ মাদুশাঙ্কার বলে ক্যাচ তুললে ভেঙে যায় এই জুটি। আফিফ ২২ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রান করেছেন। সঙ্গী হারিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও হাসারাঙ্গার বলে সাজঘরে ফিরলে মনে হচ্ছিল ইনিংস বুঝি পথ হারাচ্ছে। কিন্তু মোসাদ্দেক হোসেন এসেই রানের চাকা সচল রাখতে অবদান রেখেছেন।
ফেরার আগে ২২ বলে ১টি চার ও ১ ছক্কায় ২৭ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ দিকে মোসাদ্দেক ক্যামিও ইনিংস খেলতে পারলেও শেষের ঝড়ের সময় শেখ মেহেদী অবদান রাখতে পারেননি। ৪ বল খেলে ১ রানে করুনারত্নের বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন। তবে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন পেসার তাসকিন-মোসাদ্দেক। দুজনে শেষ ওভারে তুলেছেন ১৭ রান।
মোসাদ্দেক ৯ বল খেলে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাতে ছিল ৪টি চার। আর তাসকিন ৬ বলে এক ছক্কায় ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
লঙ্কানদের হয়ে ৪১ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন হাসারাঙ্গা, ৩২ রানে দুটি নেন করুনারত্নেও। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মাদুশাঙ্কা, থিকশানা ও ফার্নান্ডো।









