গত বছর সেপ্টেম্বরে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। দক্ষিণ এশিয়া জয়ী মেয়েদের ছাদখোলা বাসে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি) বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায় থেকে তাদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘোষণা দেওয়া টাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বলছে, বিসিবির টাকার বিষয়টি তারা জানে না। অন্যদিকে বিসিবি বলছে অক্টোবরেই চেক তৈরি ছিল, কিন্তু বাফুফের কেউই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ক্রিকেট বোর্ডের আশা, ঈদের আগেই মেয়েদের কাছে পুরস্কারের টাকা পৌঁছে দিতে পারবে।
মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাই ফুটবলে সাফজয়ী বাংলাদেশ দল খেলতে পারেনি। আর্থিক সংকটের কারণে আগেই সেখানে অংশগ্রহণ বাতিল করেছে বাফুফে। এই নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। ওখানেই উঠে আসে লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও সাফজয়ী মেয়েদের অর্থ পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মানিক (বাফুফে সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক) টাকা দিয়েছে। সালাম (বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী) পে অর্ডার করে রেডি আছে। বিসিবির খবর জানি না। অনেকে টিভি পর্দায় বলেছে... তাদের বলছি ২৪ তারিখ দল যাবে সেখানে টাকা দেন।’
আগামী ২৪ এপ্রিল এশিয়ান কাপের বাছাই খেলতে সিঙ্গাপুর যাবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। তার আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তিদের থেকে এক প্রকার টাকা চেয়ে রাখলেন বাফুফে সভাপতি।
বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানেই নারী ফুটবলারদের আর্থিক পুরস্কারের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিসিবির পক্ষ থেকে গড়িমসি করা হচ্ছে এমন গুঞ্জনে তিনি বলেছেন, ‘মিথ্যা কথা। ওরা (বাফুফে) নেয় না। বারবার বলা হচ্ছে তো। সুজনের (সিইও) সঙ্গে কথা বলেন, বলতে পারবে। আমাদের অক্টোবর মাসে চেক সই করা হয়েছে, একদম নামে, নামে।’
বাফুফে বলছে, তাদের কাছে টাকা পাঠানো হয়নি এমন প্রশ্নে বোর্ড প্রধানের স্পষ্ট কথা, ‘বাফুফেকে দেবো না তো আমরা (মেয়েদের হাতে তুলে দিতে চান)। ওরা নিতে আসে না। এই বিষয়ে বেশি ভালো বলতে পারবে আমাদের সিইও। কদিন আগেও ওদের ফোন দেওয়া হয়েছে, ‘আসেন, নেন ভাই’। ওরা তো আসে না। এখন কী করবেন?’
একই প্রশ্নে পরে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের বোর্ড সভাপতির একটা অঙ্গীকার ছিল, ৫০ লাখ টাকা খেলোয়াড়দের দেওয়া হবে। সেভাবেই বাফুফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আসলে খেলোয়াড়দের ফাঁকা সময় এবং তাদের কাছে চেক তুলে দেওয়ার যে ইচ্ছে আমাদের ছিল, সেটা মিলছিল না বলেই হয়তো দেরি হচ্ছিল। কিন্তু আমরা প্রস্তুত ছিলাম তিন-চার মাস আগে থেকেই এবং চেকও প্রস্তত ছিল। সেটা আমরা যোগাযোগ করেছি এবং সাম্প্রতিক সময়েও আমরা কথা বলেছি। উনারা সুবিধাজনক একটা সময় দিলে আমরা চেকগুলো হস্তান্তর করে দেবো। যদি সেটা না হয়, উনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা চেকগুলো পৌঁছে দেবো।’
কবে নাগাদ চেক হস্তান্তর করা হতে পারে এমন প্রশ্নে প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘ইচ্ছে আছে ঈদের আগেই দিয়ে দেওয়ার।’









