আইপিএল থেকে সবার আগে ছিটকে গেছে দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে আট নম্বরে থাকা পাঞ্জাব কিংসের হাতে সুযোগ ছিল প্লে-অফে জায়গা করতে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখার। কিন্তু বুধবার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দিল্লির কাছে ১৫ রানে হেরে যাওয়াতে সেই সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ হয়ে গেছে।
শেষ দুই ম্যাচ জিতলে সেরা চারের জন্য পাঞ্জাবের ১৬ পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ ছিল। তাছাড়া নেট রান রেট ও অন্যান্য ম্যাচের ফলও পক্ষে আসা প্রয়োজন ছিল। এই অবস্থায় অলৌকিক কিছু ছাড়া আর কোনও আশা নেই তাদের।১৩ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পাঞ্জাব আটেই অবস্থান করছে। দিল্লি ১২ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচেই অবস্থান করছে।
২১৪ রানের বড় লক্ষ্য পেলেও সেটি তাড়া করতে পাঞ্জাবের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন লিয়াম লিভিংস্টোন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। লিভিংস্টোন দ্বিতীয় বলে এক ছক্কা, তার পর চার ও চতুর্থ বলে আবার ছক্কা মারলে ম্যাচটা তখন রোমাঞ্চকর হয়ে দাঁড়ায়। দিল্লির দুর্ভাগ্য চতুর্থ ডেলিভারিটি নো হলে শেষ তিন বলে প্রয়োজন পড়ে ১৬ রান। প্রান্ত আগলে বিস্ফোরক ব্যাটিং করতে থাকা লিভিংস্টোন থাকায় সেটি অসম্ভবও ছিল না। কিন্তু শেষ তিন বলে কিছুই করতে পারেননি তিনি। বরং শেষ ডেলিভারিতে ৪৮ বলে ৯৪ রানে আউট হয়েছেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৯টি ছয়ের মার। শুরু থেকে ইংলিশ ব্যাটারই হাল ধরে খেলছিলেন। তাছাড়া ৪২ বলে ৫৫ রানে আউট হয়েছেন অথর্ব তাইদে। রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ার আগে তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছয়।
দিল্লির হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ইশান্ত শর্মা ও আইনরিখ নর্কিয়া।
স্কোর: দিল্লি ২১৩/২
পাঞ্জাব: ১৯৮/৮
ফল: দিল্লি ১৫ রানে জয়ী।
টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে রাইলি রুশোর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে বড় স্কোর পায় দিল্লি। ২ উইকেটে পায় ২১৩ রানের সংগ্রহ। টুর্নামেন্ট এখন পর্যন্ত ৩২তম বার দলীয় স্কোর দুইশ ছাড়ালেও দিল্লি এবারই প্রথম ডাবল ছাড়াতে পেরেছে। যার মূল প্রভাবক ছিলেন রুশো। ওপেনিং জুটিতে ৯৪ রানের জুটি গড়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও পৃথ্বী শ। ওয়ার্নার ৪৬ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। তার ৩১ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছয়। পৃথ্বী অবশ্য হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। ৩৮ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ রান করেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় তাণ্ডবটা চালিয়েছেন রুশো। ৩৭ বলে ৬ চার ও ৬ ছক্কায় ৮২ রানের বারুদ ঠাসা ইনিংস উপহার দিয়েছেন। ম্যাচ সেরাও তিনি। তার ব্যাটেই স্কোর এতদূর পর্যন্ত গেছে। তিনি যখন মাঠে নামেন, তখন খেলা বাকি ছিল ৯.৪ ওভার।
তাছাড়া ফিল সল্টও ১৪ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছেন। পাঞ্জাব কিংসের হয়ে ৩৬ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন স্যাম কারান।








