বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অগ্রাধিকার ছিল আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার বাস্তবায়ন। অবশেষে সেই পথে পা বাড়ালো দেশের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া ফেডারেশন। সোমবার বিসিবি সভা শেষে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে ইতিবাচক খবর শোনান বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
সাতটি আঞ্চলিক সংস্থার মধ্যে পাঁচটির কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। সাতটি বিভাগের মধ্যে খুলনা ও বরিশালেই কেবল অ্যাডহক কমিটি গঠন হয়নি। খুলনা বিভাগের শেখ সোহেল বিদেশে এবং বরিশাল বিভাগের আলমগীর হোসেন আলো অসুস্থ থাকার কারণে এই দুই বিভাগে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়নি। বাকি পাঁচটি আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা থেকে প্রস্তাবিত কমিটির নামও দেওয়া হয়। বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভাতে সেই নামগুলো অনুমোদন করে দেয়।
এ ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা নিয়ে কাজ করছি। আজকে যত নিয়ম-কানুন আছে সবকিছু দেখে যে অ্যাডহক কমিটি হবে, এর অধীনে দুই বছরের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিতে হবে। এসব শেষে সাতটার মধ্যে পাঁচটির অনুমোদন দিয়েছি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট- ওদের কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। অনেকদিন পরে হলেও এটি বড় অর্জন। আরেকটিতে (খুলনা) আমাদের যে দায়িত্বে ছিলেন, (শেখ) সোহেল ভাই বিদেশে থাকায় জমা দিতে পারেননি। আর একটা পাইনি, বরিশালে (আলমগীর হোসেন) আলো ভাই অসুস্থ। উনার অবর্তমানে করতে চাচ্ছি না। উনি সুস্থ হয়ে এলে বরিশালেরটা নেবো।’
২০০০ সালের অক্টোবরে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এজিএমে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনের তাগিদ দেওয়া হলেও গত ২২ বছরে এর কোনও অগ্রগতি ছিলো না। দ্বিতীয় দফায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৭ সালে পাপন জোর গলায় বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রথম এবং প্রাথমিক কাজ হবে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়া। আমরা চেষ্টা করবো আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটা চূড়ান্ত করতে… আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়াকেই আমরা সবার আগে প্রাধান্য দেব। চেষ্টা করবো খুব শিগগিরই, এমনও হতে পারে তিন মাসের মধ্যে সব তৈরি করে ফেলেছি।’
এতদিন না পারলেও ২৩তম বছরে এসে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা। পুরো দেশে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দিতে আঞ্চলিক জেলা ক্রীড়া সংস্থা কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
পরিচালনা পর্ষদের সভাতে এর বাইরেও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা স্টেডিয়াম সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করে আসছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই মাঠের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব মূলত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। এই মুহূর্তে এনএসসির অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের উদ্যোগেই মাঠ সংস্কারের পদক্ষেপ দিয়েছে বিসিবি। সোমবার বোর্ড পরিচালকদের বৈঠকের পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আপাতত মাঠ খেলার উপযোগী করা হবে বলে জানান তিনি, ‘খেলার উপযোগী করার জন্য আমরা অনেক অপেক্ষা করেছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরাই করে ফেলবো। মাটি ফেলে উঁচু করে যেন খেলা যায়। পরের মৌসুমগুলোতে যেন খেলতে পারি। এখন খেলছি, কিন্তু পরিবেশ এত ভালো না। আমরা চেষ্টা করছি মাঠগুলো খেলার উপযোগী করা যায় কিনা। ’
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই বিসিবি মাঠের সংকটে ভুগছে। এনিয়ে সমাধানের পথও খুঁজে বের করেছে তারা। ঢাকার পুবাইল ও পূর্বাচলে দুটি মাঠ কিনেছে বিসিবি, ‘ঢাকার বিভাগের খেলাগুলোর জন্য আমাদের জায়গা নেই। আশা করছি ফতুল্লা স্টেডিয়াম ঠিক হবে। হচ্ছে না। বুয়েট থেকে ডিটেইল করে জমা দিয়েছি, কিন্তু করছে না কাজ। আমাদের কিছু মাঠ কিনতে হবে। দুটা মাঠ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
পাপন আরও যোগ করে বলেছেন, ‘একটি ৩০ বিঘা আরেকটি ৩৮ বিঘা। আমরা দাম দেখেছি। একটা পুবাইল, আরেকটা পূর্বাচলের কাছে। আশা করছি হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় দুই জায়গায় প্রপোজাল এসেছে। চট্টগ্রামেরটা কিনে দিতে বলেছি। আর বগুড়ারটা আমরা আরেকটু দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেবো।’
এর বাইরে পূর্বাচলে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্মাণের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে বিসিবি, ‘শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওকে। আগামী মাসের মধ্যে বাকি সব প্রসেস শেষ হবে। এরপর রেটিং করাবো। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর থেকে সিভিল কনস্ট্রাকশন কন্ট্রাক্ট করাবো। এ বছরের মধ্যে কাজ কাকে দেওয়া হবে বাছাই করবো।’









