দুই সপ্তাহ পর এশিয়া কাপে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তার পরপরই শুরু বিশ্বকাপ। এমন দুটি টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের পদ শূন্য হয়ে পড়ে। ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপ খেলতে পারবেন না তামিম ইকবাল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও সেটি নিয়েও আছে সংশয়। এই অবস্থায় দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না হলেও আপতত আসন্ন দুটি বড় ইভেন্টের জন্য অধিনায়ক হিসেবে সাকিব আল হাসানের নাম ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
তামিম অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর বেশ কিছু নাম আলোচনায় থাকলেও এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো ইভেন্টে সাকিবই ছিলেন বিসিবির প্রথম পছন্দ। গত এক সপ্তাহ ধরে বোর্ড প্রধান, বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন, ঈসমাইল হায়দার মল্লিকসহ অনেকেই সাকিবকেই অধিনায়ক হিসেবে এগিয়ে রেখেছেন। এত দিন নিজেদের ভাবনার কথা জানালেও শুক্রবার দুপুরে সাকিবের নেতৃত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন বোর্ড প্রধান পাপন।
সাকিবকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ‘সামনে এখন এশিয়া কাপ, এরপরই বিশ্বকাপ। এত কম সময়ের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে সহজ ও অবধারিত পছন্দ সাকিব আল হাসান। আরেকটা অটো চয়েজ আছে। সেটা হলো, ও না খেললে সহঅধিনায়ক যে আছে, সে হবে- লিটন দাস।’
পাপন মনে করেন সাকিবের চেয়ে সিরিয়াস ক্রিকেটার আর কেউ নেই, ‘ওর সম্ভাবনা নিয়ে তো কোনও সন্দেহ নেই। একটা জিনিস খুব ভালো লাগছে আমার, সেটা হচ্ছে সাকিবকে নিয়ে আমার যে সন্দেহ ছিল, এটা আমার ব্যক্তিগত কথা, সে কতটা সিরিয়াস, কোন খেলাটা খেলবে কিংবা খেলবে না…। এখন দেখছি, ক্রিকেট নিয়ে ওর চেয়ে সিরিয়াস কেউ নেই।’
সাকিবকে পছন্দ করার আগে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে যেহেতু স্বল্পমেয়াদের অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে সাকিবের নামটিই সবার প্রথমে ছিল, ‘আরও দু-একটি নাম এসেছে, যেমন মেহেদী হাসান মিরাজ। দীর্ঘ মেয়াদে চিন্তা করলে কে হবে, সেই আলোচনা থেকে। কারণ এখন তো ধরেন মুশফিক করছে না, তামিমও ছেড়ে দিলো, সাকিবও যদি কখনও ছেড়ে দেয় তখন কী হবে...। ওরকম দীর্ঘ মেয়াদে যখন চিন্তা করবো, তখন আরও নাম আসবে। এরকম নাম আসতেই পারে, সমস্যা নেই।’
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে আগে থেকেই বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে আছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার সাকিব। তবে আপাতত ওয়ানডের অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়া সাকিব ভবিষ্যতে তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব পালন করবেন কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। সাকিবের সাথে আলোচনা করেই বিসিবি পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত নেবে। এ ব্যাপারে বোর্ড সভাপতি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ওর (সাকিব) জন্য তিন সংস্করণে একসঙ্গে অধিনায়কত্ব করা কঠিন। এটা ওর সঙ্গে কথা বলে ঠিক করতে হবে। ও কোন সংস্করণে করতে চায়, কোনটা রাখতে চায়, যদি এক-দুই সংস্করণ চায়, তাহলে একরকম, আবার ও যদি বলে তিন সংস্করণেই করতে চায়, তাহলে তো সমস্যাই নেই। তো ওর ব্যাপারটা জেনে তারপরে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’









