তামিম ইকবাল অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ায় এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন অধিনায়ক খুঁজতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ‘অবধারিত পছন্দ’ হিসেবে তারা সাকিব আল হাসানকে বেছে নিয়েছে। শনিবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়কত্বের ব্যাপারে কথা বলেছেন সাকিব। সামনে এশিয়া কাপ থাকায় আপাতত মহাদেশীয় টুর্নামেন্টকেই শুধু গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
বামহাতি অলরাউন্ডারকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার সময় সাকিবের সঙ্গে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। সামান্য আলোচনাতেই অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে তাকে। ওই সময় বোর্ড সভাপতি বলেছিলেন, ‘সামনে এশিয়া কাপ, এরপরই বিশ্বকাপ। এত কম সময়ের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে সহজ ও অবধারিত পছন্দ সাকিব আল হাসান। সাকিবকে নিয়ে আগে আমার যে সন্দেহ ছিল, এটা আমার ব্যক্তিগত কথা, সে কতটা সিরিয়াস, কোন খেলাটা খেলবে কিংবা খেলবে না…। এখন দেখছি, ক্রিকেট নিয়ে ওর চেয়ে সিরিয়াস কেউ নেই।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর সাকিব শনিবার অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রথমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন। শুরুতে বলেছেন, ‘পাপন ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলো, আলোচনা হল। তার পর তো পাপন ভাই সেটা ঘোষণাই করলো।’
সাকিবের নেতৃত্বে এর আগে ঘরের মাঠে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। ওই বছরই আবার তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়েও দেওয়া হয়। এরপর আর পাকাপাকিভাবে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক থাকেননি তিনি। মাঝে ২০১৫ সালে দুটি ও ২০১৭ সালে একটি ম্যাচে মাশরাফির অবর্তমানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবারও পাকাপাকিভাবে দায়িত্ব পাননি। পেয়েছেন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে। পুরোনো অভিজ্ঞতা থাকায় সাকিব এই অধিনায়কত্বকে বড় করে দেখছেন না, ‘দলের সঙ্গে আমার খুব বেশি এখন পর্যন্ত কথা হয়নি। এমনও না যে দলে অনেক নতুন খেলোয়াড় আছে। এদের বেশিরভাগকে আমি অনেকদিন ধরেই চিনি। যারা আমার অধীনে খেলেছে অথবা আমি তাদের অধীনে খেলেছি এবং একসঙ্গে খেলেছি। আর দুই/ একজন যে নতুন খেলোয়াড় এসেছে, তাদেরও আমার সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে।’
সাকিব আরও বলেছেন, ‘এখানে আসলে মানিয়ে নেওয়ার কিছু আছে বলে মনে হয় না। কার কী দায়িত্ব, সেটা সবাই জানে। যেহেতু ক্রিকেটের দিক থেকে আমাদের একটি কালচার আছে কিংবা আমরা সেটি তৈরি করার চেষ্টা করছি, সেই দিক থেকে সবাই জানে কার কী কাজ।’
সামনেই বিশ্বকাপ। তার আগে এশিয়া কাপ খেলবে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে সাকিব এশিয়া কাপ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে চান না, ‘এখন আসলে পুরোটাই আমাদের এশিয়া কাপ কেন্দ্রিক প্ল্যান, প্রস্তুতি। এশিয়া কাপ শেষ হলে যখন বিশ্বকাপের সময় আসবে, তখন বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তা করবো। এখন আমাদের ভাবনায় শুধু এশিয়া কাপ। যদি আরও সংক্ষিপ্ত করে বলতে চাই আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা ম্যাচ নিয়েই ভাবছি।’
২০১৯ বিশ্বকাপ সাকিবের দারুণ কেটেছে। ব্যাট হাতে ৬০৬ রানের পাশাপাশি বল হাতে দশ উইকেট নিয়েছিলেন। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করেই সাকিবের এমন সাফল্য। এবারও কি সাকিব ওই পজিশনে ব্যাটিং করবেন? সাকিবের উত্তর, ‘চার বছর আগে যা করেছি তার মানে এই না যে চার বছর পরেও সেটাই করতে পারবো। এগুলো আসলে খুবই কঠিন ব্যাপার। তবে দলের প্রয়োজনে যার যেখানে খেলার প্রয়োজন, সে যদি সেখানে সেটা করতে পারে তাহলে সেখানে দলের লাভ। আমি ২০১৯ সালে কত রান করেছি, সেটা আসলে এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ না। এতে কিছুই বহন করে না। তবে যে কোনও জায়গায় দলের জন্য কিছু করতে পারলে সেটা উপভোগ করি।’
এশিয়া কাপের প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে। এই ম্যাচ দুটিতে ভালো ফলের ওপর নির্ভর করবে দ্বিতীয় রাউন্ড। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এশিয়া কাপে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও দুটি টুর্নামেন্টকে আলাদা আলাদা হিসেবেই দেখছেন সাকিব, ‘এশিয়া কাপ দিয়ে আসলে বিশ্বকাপ বোঝার কোন উপায় নেই। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা টুর্নামেন্ট। তবে হ্যাঁ এখানে (এশিয়া কাপে) যদি ভালো কিছু করতে পারি এবং এশিয়ার মধ্যে একটি ভালো দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারি। তাহলে বিশ্বকাপেও ভালো করার একটা দারুণ সম্ভাবনা থাকবে। সেই দিক থেকে এশিয়া কাপ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমন না যে এশিয়া কাপে খারাপ করলে বিশ্বকাপের সব আশা শেষ হয়ে যাবে। আবার এশিয়া কাপে অনেক ভালো করলে বিশ্বকাপের আশা অনেক বেড়ে যাবে, এমনও ভাবা যাবে না।’









