২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর দিনে বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলেছেন সাব্বির রহমান রুম্মন। রবিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাব্বিরের ব্যাটে ৫৪ বলে ৮০ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস দেখেছেন মিরপুরে দর্শকরা।
শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের উপর চড়াও হন সাব্বির। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কুলাসাকারাকে দিয়ে তার বিধ্বংসী রূপ দেখান। ওই ওভারে ৩ চার ও এক ছয়ে ১৮ রান করেন সাব্বির। ওখান থেকে শুরু করে থামেন ৮০ রানে। দুশমান্থা চামিরার বল ডিপ মিড উইকেটে ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে তালুবন্দী হন শিহান জয়সুরিয়ার হাতে। তার আগে ৩ ছয় ও ১০ চারে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান করেন তিনি।
২০১২ সালে তামিম ইকবাল মিরপুরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ওই ম্যচে তার ব্যাট থেকে এসেছিলো ৮৮ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাকিব আল হাসানের পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৪ রান, ২০১২ সালে। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যাওয়া নিজামউদ্দিনের তৃতীয় সর্বোচ্চ (৮১)। ২০০৭ সালে নাইরোবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
রবিবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৮০ রানের ইনিংস খেলে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যান রাজশাহী থেকে উঠে আসা সাব্বির।
টি-টোয়েন্টি সাব্বিরের একটি সেঞ্চুরিও আছে। তবে অফিসিয়াল ম্যাচ না হওয়ার কারণে এটা আইসিসির রেকর্ডে নেই। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ শুরুর আগে ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে ৯৯ বলে সাত চার ও আট ছয়ে ১২৩ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে বিসিবি একাদশকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। তার এর পর থেকেই তাকে টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ নামে অ্যাখায়িত করা হয়।
অবশ্য গত অস্ট্রেলিয়া-নিউজ্যিলান্ড বিশ্বকাপে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে নাম কুড়িয়েছিলেন সাব্বির। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দলে নিয়মিত খেলে চলেছেন। টি-টোয়েন্টি তার প্রিয় খেলা বলেই ৬-৭ নাম্বার থেকে প্রমোশন দিয়ে তাকে তিন নাম্বারে আনা হয়েছে। সুযোগ পেয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণও দিয়েছেন তিনি। আরব আমিরতারে বিপক্ষে রান না পেলেও ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সাব্বির(৪৪)।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৭ ম্যাচে ৪১১ রান সংগ্রহ করেছেন তরুণ এই তুর্কি। শতক না থাকলেও তার রয়েছে ৩টি অর্ধশতক। এছাড়া ২৩ ওয়ানডে খেলে ৪৮২ রান এসেছে সাব্বিরের ব্যাট থেকে। অর্ধশতক দুটি।
/এমআর/








