বিশ্বকাপে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে ভারত। কোনও দলই স্বাগতিকদের থামাতে পারছে না। নিজেদের সপ্তম ম্যাচে এসে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। সেপ্টেম্বরে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালের প্রতিচ্ছবিই যেন দেখা গেলো আজ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে। কলম্বোতে অবশ্য আগে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা ৫০ রানে অলআউট হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ৩৫৮ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৫ রানে অলআউট হয়েছে শ্রীলঙ্কা। তাতে ৩০২ রানের বড় ব্যবধানে জিতে সবার আগে ভারত সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
৩৫৮ রানের লক্ষ্যে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় লঙ্কান দল। জসপ্রীত বুমরার বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন পাথুম নিশাঙ্কা। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মদ সিরাজের বলটি লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউর শিকার হন দিমুথ করুণারত্নেও। দুই ওপেনারের গোল্ডেন ডাকের এমন ইতিহাস ওয়ানডেতে চতুর্থবারের মতো ঘটেছে। মোহাম্মদ সিরাজ ও মোহাম্মদ শামির দারুণ বোলিংয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারতে পারতো লঙ্কানরা। কিন্তু নবম ব্যাটার হিসেবে নামা মাহিশ থিকশানা (১২*) এবং দশম ব্যাটার হিসেবে নামা কাসুন রাজিথার (১৪) দৃঢ়তায় সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার এড়ায় লঙ্কান দল। তাতে বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন (৩৬) রানে অলআউট হওয়ার লজ্জার রেকর্ড থেকেও বেঁচে যায় তারা।
চলতি বছরই শ্রীলঙ্কাকে ৩১৭ রানে হারানোর ইতিহাস তৈরি করেছিল ভারত। পুনেতে ৩৯১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৭৩ রানে অলআউট হয়েছিল। ৯ ম্যাচের ব্যবধানে মুম্বাইয়ে আজ শ্রীলঙ্কা অলআউট হলো ৫৫ রানে। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় এটি হলেও বিশ্বকাপে অন্যটি। চলতি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ৩০৯ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে আগ্রাসী ছিলেন মোহাম্মদ শামি। ১৮ রানে তার শিকার ৫ উইকেট। এছাড়া সিরাজ নিয়েছেন তিনটি এবং জসপ্রীত বুমরা ও রবীন্দ্র জাদেজার শিকার একটি করে উইকেট।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। ইনিংসের প্রথম বলেই দিলশান মাদুশাঙ্কার বল ফ্লিক করে লেগ গালির বাম পাশ দিয়ে চার মেরেছিলেন রোহিত শর্মা। ঠিক তার পরের বলেই মাদুশাঙ্কার অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন ভারতীয় অধিনায়ক। তখনও লঙ্কান সমর্থকরা ভাবেননি আরও ভয়ঙ্কর কিছু অপেক্ষা করছে তার দলের জন্য।
দ্বিতীয় উইকেটে শুবমান গিল ও বিরাট কোহলি মিলে দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দু’জনই হাফ সেঞ্চুরি তোলার পর আরও চড়াও হয়ে খেলেছিলেন। নিজেদের ‘বিশেষ’ সেঞ্চুরি পাওয়ার পথে ভালোভাবেই ছিলেন। গিলের জন্য ছিল বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরির সুযোগ। অন্যদিকে কোহলির কাছে ছিল ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৯ তম সেঞ্চুরি, যা হতো শচীনের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ শতকের রেকর্ড। তবে মাদুশাঙ্কা হতে দেননি কোনওটিই। ৩০ তম ওভারের শেষ বলে আপার কাট করতে গিয়ে আউট হন গিল। ৯২ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় ৯২ রানে আউট হন তিনি। তাতে ১৭৯ বলে ১৮৯ রানের জুটি ভাঙে গিলের আউটে।
গিল আউট হওয়ার কিছু কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে যান কোহলিও। মাদুশাঙ্কার বলে ৮৮ রানে নিশাঙ্কাকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন কোহলি। তাতে শচীনকে ছোঁয়া থেকে ১২ রান দূরে থাকতে আউট হন ভারতীয় এই তারকা ব্যাটার। ৯৪ বলে ১১ চারে নিজের ইনিংসটি খেলেন তিনি। দ্রুত সময়ে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। তার পর লোকেশ রাহুল (২১) ও সূর্যকুমার যাদব (১২) চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হলে বড় পুঁজি হওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়ে যায় স্বাগতিকরা। ঠিক সেই সময়ে টর্নেডো ইনিংস উপহার দিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। তার ব্যাটে স্কোর ৩৩৩ রান পর্যন্ত গেছে। দুর্ভাগ্য শ্রেয়াসও সেঞ্চুরি করতে পারেননি। রান তোলার তাড়ায় ৫৬ বলে ৮২ রানে আউট হয়েছেন। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৬টি ছয়। তার পর স্কোরটা সাড়ে তিনশো ছাড়াতে অবদান রাখেন রবীন্দ্র জাদেজা। ২৪ বলে ৩৫ রানের কার্যকরী ইনিংস উপহার দেন তিনি। তাতের ছিল ১টি চার ও ১টি ছয়।
৮০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন দিলশান মাদুশাঙ্কা। একটি নিয়েছেন দুশমন্থ চামিরা।








