ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার টাইমড আউট দেখা গেলো, যা নতুন করে উত্তাপ ছড়ালো বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। লঙ্কান অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটীয় চেতনার জন্য বাজে দৃষ্টান্ত নাকি আইন মেনে তিনি সঠিক কাজ করেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা। এবার তাতে যুক্ত হলেন প্রখ্যাত ক্রিকেট উপস্থাপক হার্শা ভোগলে।
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাখ্যা দিয়েছেন হার্শা, ‘আপনাকে আম্পায়ারদের বিশ্বাস করতে হবে। তারা যদি বলেন ২ মিনিট পেরিয়ে গেছে, ঠিকই বলেছেন। তাদের তো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। আম্পায়ারদের এসব ভুল হওয়ার কথা নয়।’
আইন মানার পক্ষে তিনি, ‘দ্বিতীয়ত, আইন অস্বীকার করার কোনও সুযোগই নেই। যদি আইন বা নিয়ম থাকে আর আপনার তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সাকিবের আবেদন করা ঠিকই আছে। তার আবেদন করা উচিত হলো কি হলো না সেটা নির্ধারণ করে দেওয়ার আমরা কেউ নই। এটা তার সিদ্ধান্ত এবং এভাবেই সে খেলতে চায়।’
ভুলটা ম্যাথুজের ছিল মনে করেন হার্শা, ‘যদিও এই বিষয়টা একটু ভিন্ন, কারণ নন স্ট্রাইকিং ব্যাটারের মতো কোনও ব্যাপার এখানে নেই। মানকাডে নন স্ট্রাইকিং ব্যাটার সুবিধা নিতে চায়, তাই বোলারও তাকে আউট করার সুযোগ খোঁজে। ম্যাথুজ কিন্তু কোনও সুবিধা চাচ্ছিল না বা খুঁজছিলও না। ব্যাটাররা নিজ হাতে বল বোলার বা ফিল্ডারের হাতে তুলে দেয়, তখন কিন্তু কেউ উইকেটের আবেদন করে না। সতর্ক ব্যাটাররা জিজ্ঞাসা করে নেয়, তারা এটা করতে পারবে কি না। এখানে যদি ম্যাথুজ তার হেলমেট পরিবর্তনের কথাটা বলে নিতো আমার মনে হয় বাংলাদেশ উইকেটের জন্য আবেদনেই করতো না। দুর্ভাগ্যজনক। হয়তো আমি নন স্ট্রাইকারকে প্রতিদিনই মানকাড করতে চাইবো। তবে ম্যাথুজের এমন উইকেটের ক্ষেত্রে আবেদনই করবো না।’
ক্রিকেটীয় চেতনার চেয়ে আইনকে প্রাধান্য দিলেন হার্শা, ‘স্পিরিটের কথা এখানে না বলাই ভালো। আইন মেনেই আপনাকে খেলতে হবে। সেটার বাইরে কীভাবে খেলতে হবে সেটা কারও ব্যক্তিগত ব্যাপার। ম্যাথুজ ও শ্রীলঙ্কান ভক্তরা হতাশ হতে পারে, তবে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাথুজ আউট ছিল।’
ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টাইমড আউট হয়েছেন লঙ্কান অলরাউন্ডার ম্যাথুজ।
ঘটনাটি ছিল ২৫তম ওভারের। নিয়ম অনুযায়ী নতুন ব্যাটার হিসেবে ২ মিনিটের মধ্যে প্রথম বলের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু ম্যাথুজ সময়ের বিষয়টি মাথায় রাখেননি।
সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হওয়ার পরও ম্যাথুজ মাঠে ঢুকেন। পিচে ঢুকে হেলমেট বদলাতে গিয়ে নষ্ট করেন সময়। কারণ তার হেলমেটের স্ট্র্যাপটি ভাঙা ছিল। ওই সময় তার বিরুদ্ধে টাইমড আউটের আবেদন করে বাংলাদেশ। ম্যাথুজকে আউটের সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস ও রিচার্ড উইলিংওর্থ। ম্যাথুজ অবশ্য ওই পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেন সাকিবকে। তাতেও সাড়া পাননি তিনি।
ওই সময় সাকিব বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ফিল্ডাররাও অবস্থান নিয়েছিলেন যার যার। তখন কমপক্ষে পাঁচ মিনিটের মতো সময় নষ্ট হয়েছে। তাতে এটাও বোঝা যাচ্ছে, আম্পায়ার তাকে আউট ঘোষণার ক্ষেত্রে অনুগ্রহ করে বেশি সময় নিয়েছিলেন।








