গ্রেনাডায় রান উৎসবের সাক্ষী হলেন হাজার হাজার দর্শক। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২২২ রান দেওয়ার পর ইংল্যান্ড বিস্ময়করভাবে জিতে গেলো। জয়ের মূল নায়ক ফিল সল্ট, শেষদিকে দারুণ ফিনিশিংয়ে পার্শ্বনায়ক হ্যারি ব্রুক। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ৭ উইকেটে জিতে সিরিজও বাঁচিয়ে রাখলো সফরকারীরা।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শনিবার সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল। আগের ম্যাচের হার্ডহিটার ব্র্যান্ডন কিং (৮) এবার ব্যর্থ। কাইল মায়ার্স তিন বল খেলে ডাক মারেন।
তারপর নিকোলাস পুরান দাঁড়িয়ে যান, সঙ্গ পান শাই হোপের। দুজনের জুটি থেমে যায় ৫৪ রানে।
১৯ বল খেলে হোপ (২৬) আদিল রশিদের শিকার হন। অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল (৩৯) চলে যান ২১ বল খেলে। এই জুটি ছিল ৫৮ রানের।
ইংলিশদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো পুরানকে থামান আদিল রশিদ। শেরফানে রাদারফোর্ডের (২৯) সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়েন পুরান। ৪৫ বলে ৬টি করে চার ও ছয়ে ৮২ রান করেন তিনি। শেষ দিকে জেসন হোল্ডারের অপরাজিত ১৮ রান দলের স্কোর দুইশ পার করতে বড় ভূমিকা রাখে। ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
বড় লক্ষ্যে নেমে জস বাটলার ও ফিল সল্টের জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে ফেলে ইংল্যান্ড। এই জুটি ১১৫ রানে ভেঙে দেন আন্দ্রে রাসেল। ৩৪ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৫১ রান করে মাঠ ছাড়েন বাটলার।
স্কোরবোর্ডে আর এক রান জমা হতে উইল জ্যাকস (১) বিদায় নেন। তারপর লিয়াম লিভিংস্টোনকে নিয়ে তীব্র লড়াই শুরু করেন সল্ট।
লিভিংস্টোন ১৮ বলে তিন ছয়ে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। ১৮তম ওভারে তিনি বিদায় নিলে হ্যারি ব্রুক ক্রিজে দাঁড়ান। তার আগের বলে পঞ্চম ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করেন সল্ট।
নিজের খেলা প্রথম বলেই ছয় মারেন ব্রুক। শেষ দুই ওভারে ৩১ রান দরকার ছিল। ১৯তম ওভারে সল্টের ছক্কায় ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২১ রানে।
শেষ ওভারে ব্রুক চালান তাণ্ডব। প্রথম বলে আন্দ্রে রাসেলকে চার মারেন। পরের দুই বলে এক্সট্রা কাভার ও ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। চতুর্থ বলে ডাবলসে লক্ষ্য নামান ৩ রানে। তখনও দুই বল বাকি, কোনও ঝুঁকি নেননি ব্রুক। ছয় মেরে এক বল হাতে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে নেন ব্রুক।
সল্ট ৫৬ বলে ৪ চার ও ৯ ছয়ে ১০৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। হয়েছেন ম্যাচসেরা। ব্রুক ৭ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৯.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ২২৬ রান করে ইংল্যান্ড।
দুই দলের সম্মিলিত রান ৪৪৮, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ বাঁচিয়ে রাখলো ইংল্যান্ড। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে তারা।









