ভুলে ভরা ক্রিকেটে কেবল আফসোস  

রবিউল ইসলাম
২৪ অক্টোবর ২০২৪, ১৩:৩৭আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৪, ১৩:৩৭

ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরও একটি টেস্ট হার সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজের প্রথম টেস্ট ৭ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিকরা।

মূলত প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১০৬ রানে। এই ব্যাটিং ব্যর্থতা দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করেও পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলাফল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আরও একটি পরাজয়। এমন পরাজয়ের জন্য দায়টা নিজেদেরই। পুরো ম্যাচই ছিল ভুলে ভরা; যে কারণে কেবল আফসোস সঙ্গী হয়েছে।

বাংলাদেশকে সহজে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা উপমহাদেশে হারের গেরো খুলেছে। ২০১৪ সালে সর্বশেষ লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সময় ১৪ ম্যাচ খেলে ১০টিতে হার এবং চারটিতে ড্র ছিল তাদের সঙ্গী। দশ বছর পর ঢাকায় এসে হারের বৃত্তটা ভাঙলো এইডেন মারক্রামের দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার বৃত্ত ভাঙার সুযোগ করে দিয়েছে মূলত বাংলাদেশের ব্যাটাররাই। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ঢাকা টেস্টে ইনিংস ব্যবধানেই হারতে হতো। যদি না লেট অর্ডারে দ্বিতীয় ইনিংসে ত্রাতার ভূমিকায় থাকতেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দল চাপে পড়া মানেই যেন প্রতিপক্ষ বোলারের সামনে মিরাজের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়ানো। মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দারুণ লড়াইয়ে মিরাজ প্রায় সেঞ্চুরি করেই ফেলেছিলেন। দুর্ভাগ্য ৩ রানের জন্য টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা মিস করে ফেলেন তিনি। 

বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা রীতিমতো ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুটহাট টপ অর্ডার ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু নিয়মিত ভাবে এই ব্যর্থতা দলের সফলতার পেছনে বড় বাঁধা। গত তিন বছরে লেট অর্ডারে নেমে সফল ছিলেন শুধু মেহেদী হাসান মিরাজ। যেকারণে নাজমুল হোসেন শান্ত, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক ও মাহমুদুল হাসান জয়ের চেয়েও তার ব্যাটিং গড় বেশি। গত তিন বছরে মিরাজ ২৭.৪২ গড়ে ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু লিটন আর মুশফিক ছাড়া টপ অর্ডারে ব্যাটিং করা বাকিদের গড় ছিল তার চেয়েও কম। ওপরের ব্যাটারদের ব্যাটিংয়ের এই দৈন্যদশা না কাটলে টেস্ট ক্রিকেটে জয়ের ধারাবাহিকতা আসাটা বেশ কঠিন।

প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে অলআউট হওয়ার পরই মূলত বাংলাদেশ ব্যাকফুটে চলে গেছে। বোলিংয়ে সুযোগ ছিল দারুণ কিছু করার। সেই সুযোগও পেয়েছিল। ১০৮ রানে প্রোটিয়াদের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে এমন কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু সপ্তম উইকেটে ভিয়ান মুলডার ও কাইল ভেরেইন মিলে ১১৯ রানের জুটি গড়ে গতিপথ বদলে দিয়েছেন। এই জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে চালকের আসনে বসিয়েছে। ভেরেইনের সেঞ্চুরিতেই প্রোটিয়ারা প্রথম ইনিংসে পায় ৩০৮ রানের সংগ্রহ। 

বাংলাদেশ ২০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামলে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা তারা কাটিয়ে উঠবে। কিন্তু শেষ ইনিংসেও ছিল একই গল্প। বদলায়নি ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন কাগিসো রাবাদা, ভিয়ান মুল্ডার ও কেশব মহারাজরা। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই যেন দায়িত্বটা তুলে নিলেন রাবাদা। তাতে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা উঁকি দিয়েছিল বাংলাদেশ শিবিরে। ঠিক তখনই মিরাজ যোগ দেন ত্রাতার ভূমিকায়। ১১২ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অভিষিক্ত জাকের আলী ও মিরাজ মিলে ১৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছেন। এই জুটির ওপর দাঁড়িয়েই ইনিংস ব্যবধান এড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লিডও নিতে পারে স্বাগতিকরা। 

জাকের ৫৮ রানে আউট হলেও মিরাজ সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন। বুধবার সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরে ছিলেন তিনি। বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতায় দিনের বেশিরভাগ সময় নষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮৫ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৩ রান নিয়ে স্বাগতিক দল চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে। যদিও প্রত্যাশা মতো সূচনাটা হয়নি। ৮৬তম ওভারের তৃতীয় বলে নাঈম হাসানকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রাবাদা। এই উইকেট নিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৫ বার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার নজির রাখলেন প্রোটিয়া এই পেসার। 

নাঈমের বিদায়ের পর কেবল অপেক্ষা ছিল মিরাজ সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেন কিনা। দুর্ভাগ্য কাটা পড়েছেন নার্ভাস নাইনটিতে। চেয়েছিলেন বাউন্ডারি মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে। কিন্তু থার্ড স্লিপে ভিয়ান মুলডার দারুণ রিফ্লেক্সে বলটা তালুবন্দী করলে ৩০৭ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। তাতে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার থেকে ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে মিরাজকে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ১০৬ রানের মামুলি লক্ষ্যটা সহজ হলেও ধারণা করা হচ্ছিলো প্রোটিয়ারা সহজে জিততে পারবে না। কিন্তু কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে লাঞ্চ বিরতির আগেই জয়টা নিশ্চিত করে ফেলে তারা। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া তাইজুল দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি উইকেট নিলেও খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। সফরকারীরা ২২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যটা ছুঁয়ে ফেলে।

ঢাকা টেস্টে ব্যর্থতার আরও একটি কারণ ছিল উইকেট বুঝতে না পারে। অ্যাওয়ে সিরিজে উইকেট বুঝতে না পারলেও অধিনায়ক কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না। কিন্তু হোম গ্রাউন্ডে এমন ভুল মেনে নেওয়া কঠিন। ঢাকা টেস্টেও বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট উইকেটের ধরণ বুঝতেই পারেনি। অথচ প্রতিপক্ষের স্পিনার কেশভ মহারজা জানিয়েছেন, তামিম ইকবালের সাথে উইকেটে নিয়ে কথা বলে তিনি উপকৃত হয়েছেন। তামিম যেভাবে বলেছেন, সেই মতোই উইকেট কাজ করেছে! অথচ বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্ট উইকেটের চরিত্র উদ্ধার করতে পারলো না! 

প্রোটিয়ারা দুইজন পেসার নিয়ে খেলেছে। দুইজনই সফল ছিলেন নিজেদের ভূমিকায়। বাংলাদেশ নামে এক পেসার নিয়ে। হাসান মাহমুদ যখনই এসেছেন প্রতিপক্ষ শিবিরে ত্রাস ছড়িয়েছেন। কিন্তু পুরো ম্যাচেই বাড়তি একজন পেসারকে মিস করেছে বাংলাদেশ। আগের দিন দক্ষিণ আফ্রিকা আলোর স্বল্পতায় পেস আক্রমণ আনতে পারছিল না। এই কারণে নতুন বলও নেয়নি। স্পিনার দিয়ে ৫ ওভার বোলিং করানোর পর অধিনায়ক মারক্রাম আর খেলতে চাননি। প্রোটিয়াদের সচেতন গেম প্ল্যান খুব কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নতুন বল নিয়েই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন রাবাদ। বোঝাাই গেছে আগের দিনের গেম প্ল্যান এবং উইকেটের চরিত্র বুঝতে পেরেই মূলত প্রোটিয়াদের এই সাফল্য।

/এফআইআর/
সম্পর্কিত
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি