শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে অসন্তোষ উঠলেই একটি নাম বারবার শোনা যায়। তিনি লঙ্কান পিচ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। শ্রীলঙ্কার এই কিউরেটর দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান ভেন্যুর উইকেটের দায়িত্বে রয়েছেন। সমালোচনা, অভিযোগ, প্রশ্নবাণ- সবই গিয়েছে তার দিকে। অনেকবার উঠেছে তার দক্ষতা ও প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন। কিন্তু বিসিবির আস্থা যেন তার ওপর অটুটই থেকেছে। প্রতিবারই তিনি থেকেছেন রক্ষাকবচের ভেতরে, বিসিবির নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। আগামী এক বছরের জন্য তার সঙ্গে চুক্তি বাড়িয়েছে বিসিবি। যদিও এবার বেতন বাড়ানো হয়নি।
২০১০ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবিতে যোগ দেন গামিনি। এরপর একে একে সাতবার নবায়ন হয়েছে তার চুক্তি। শুরুতে ৩ হাজার ডলার মাসিক বেতন থাকলেও তা ধাপে ধাপে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। ২০১১ বিশ্বকাপের পর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, বেতনও সেভাবেই। তবে এবার, নতুন এক বছরের চুক্তিতে বেতন বাড়েনি এক পয়সাও।
চলমান চুক্তিটি শেষ হয়েছে ৩১ জুলাই। এর আগেই নতুন মেয়াদের কাগজে সই করেছেন গামিনি, যার মেয়াদ থাকবে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত। এ ব্যাপারে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেছেন, ‘গামিনির মেয়াদ এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। তিনি শেরে বাংলার প্রধান কিউরেটর হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন। আপাতত এটিই বিসিবির সিদ্ধান্ত।’
গামিনির সঙ্গে বিসিবির সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, তার মাসিক বেতন ৪,৫০০ মার্কিন ডলার। বছরে ৩০ দিনের ছুটি, ঢাকা-কলম্বো-ঢাকা বিমানে যাতায়াতের জন্য ৪,০০০ ডলার বরাদ্দ, মাসে ৫৫,০০০ টাকা আবাসন ভাতা ও ৩,০০০ টাকা মোবাইল বিল- সবই বিসিবির দায়িত্বে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রয়েছে একটি গাড়িও।
এই চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে ৩০ জুন অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায়। তবে চুক্তিটি একতরফাভাবে বাতিলযোগ্য নয়। বিসিবি চাইলে তাকে সরাতে হলে কমপক্ষে ৬০ দিনের নোটিশ বা সমপরিমাণ বেতন দিয়ে বিদায় জানাতে হবে। এতে বোঝা যায়, সমালোচনার মাঝেও বিসিবি এখনও তার ওপর আস্থাশীল।
গামিনির সময়ে মিরপুরে বাংলাদেশ খেলেছে ২২টি টেস্ট, যার ৮টিতে এসেছে জয়। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফল্যও আছে। ওয়ানডেতে জয় ৩০টি, টি-টোয়েন্টিতে ২১টি। ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় কিংবা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে হারানো সবই ঘটেছে গামিনির তৈরি উইকেটেই।








