আবুধাবির গরমে এখনো স্পিনারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে আফগানিস্তানও বেশ ভালো অবস্থানে। তবে সময় যত গড়াবে, উইকেট ততই স্পিনারদের সহায়ক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। তার আশা, ম্যাচের পরের অংশে স্পিনাররাই বড় ভূমিকা রাখবেন, আর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও রান তুলে আফগানিস্তানকে চাপে ফেলবে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক রহমত শাহর অপরাজিত ফিফটি ও ইকরাম আলিখিলের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে লড়াইয়ে ভালোভাবেই ফিরেছে আফগানিস্তান। ইকরাম অপরাজিত ছিলেন ২৬ রানে। দিন শেষে আফগানদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১১ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে ১৩৫ রানে, হাতে আছে ৬ উইকেট। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো দুই দলের নাগালের মধ্যেই।
রহমত শাহ বাংলাদেশের স্পিনারদের বেশ স্বাচ্ছন্দেই সামলেছেন। তিন উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ। একটি নিয়েছেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এতে এমন উইকেটে দুই পেসার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে স্পিনাররা খুব একটা সহায়তা পাচ্ছেন না। দ্বিতীয় দিনে আফগানিস্তানের চারটি উইকেট নিয়েছে বাংলাদেশ, যার তিনটিই পেয়েছেন পেসাররা। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে পড়া ৯ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন আফগানিস্তানের তিন পেসার।
তবে মুশতাক মনে করছেন, ম্যাচ যত এগোবে, স্পিনারদের কার্যকারিতাও তত বাড়বে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, স্পিন বড় ভূমিকা রাখবে। প্রথম তিন দিন উইকেট ধীরগতির হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই স্পিন কম থাকবে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, এই আবহাওয়ার কারণে আমার ধারণা, উইকেটে বল আরও ঘুরতে শুরু করবে।’
বাংলাদেশের বোলিং কোচ আরও বলেছেন, ‘আশা করি, আমরা স্কোরটা ধরে রাখতে পারব এবং দ্বিতীয় ইনিংসে আরও রান করতে পারব। ইনশাহআল্লাহ, আশা করি তাদের চাপে ফেলতে পারব।’
প্রচণ্ড গরমের কারণে স্পিনারদের ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করানোর কৌশলও ব্যাখ্যা করেছেন মুশতাক। দীর্ঘ সময় বোলিং করলে গরমে আঙুলগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
মুশতাক বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের সঙ্গে পুষ্টিবিদ ও খেলোয়াড়দের দেখভালের জন্য ভালো লোকজন আছেন। আমার মনে হয়, পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করানোও জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই গরমে বল ধরতে গিয়ে আঙুল অনেক সময় খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে আমাদের এমন কৌশল নিতে হয়, যাতে দীর্ঘ স্পেলের পরিবর্তে বোলাররা ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করে।’
পেসার শরিফুল ইসলামকে একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেছেন মুশতাক। তার ধারণা, পর্যাপ্ত বোলিংয়ের মধ্যে না থাকায় পাঁচ দিনের টেস্টে এমন গরমের মধ্যে খেলার ধকল সামলানো শরিফুলের জন্য কঠিন হতে পারত।
মুশতাক বলেন, ‘আমার মনে হয়, তার হয়তো পর্যাপ্ত ওভার বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল না, অথবা সে হয়তো পুরোপুরি ফিট ছিল না। বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে আমার ধারণা, সে পর্যাপ্ত বোলিং করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই গরমে কোনো পেসার যদি পর্যাপ্ত বোলিং না করে, তাহলে এমন পরিবেশে পাঁচ দিনের টেস্ট চালিয়ে যাওয়া তার জন্য খুব কঠিন। ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা, মূল বিষয়টি হলো সে পর্যাপ্ত বোলিংয়ের মধ্যে ছিল না।’