বিগ ব্যাশে অভিষেকেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন রিশাদ হোসেন। ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে হোবার্ট হ্যারিকেনসের সেরা বোলার হওয়া বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনারকে আগামী মৌসুমেও ধরে রেখেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এবার তার সঙ্গে দলে থাকছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাও।
বিগ ব্যাশ লিগের ১৫তম আসরে (বিবিএল-১৫) দারুণ সময় কাটিয়েছেন রিশাদ। ১২ ম্যাচে ২০.৮৬ গড়ে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৭.৮২ করে। তার সেরা বোলিং ২৬ রানে ৩ উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে হোবার্ট হ্যারিকেনসের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।
হ্যারিকেনসের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার স্যালিয়ান বিমস জানিয়েছেন, হোবার্টে ফিরতে রিশাদের আগ্রহই তাকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিমস বলেছেন, ‘রিশাদ আমাদের কাছে পরিষ্কার করে জানিয়েছিল, গত মৌসুমে হোবার্টে তার সময়টা খুব ভালো কেটেছে এবং সে ফিরতে চায়। বিষয়টি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
অ্যাডাম জাম্পাকে দলে নেওয়ার পর হ্যারিকেনসের দলগঠনের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে রিশাদের মতো মানসম্পন্ন বোলারকে ধরে রাখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তারা।
বিমস আরও বলেন, ‘অ্যাডাম জাম্পাকে যুক্ত করার পর আমাদের দলের গঠন কিছুটা বদলেছে। কিন্তু রিশাদের মতো মানসম্পন্ন একজন খেলোয়াড় যখন হ্যারিকেনসে ফিরতে এতটা আগ্রহী, তখন তাকে ফেরানোর সব সুযোগই আমরা খতিয়ে দেখতে চেয়েছি।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং প্রথম মৌসুমেই দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার জন্য রিশাদের প্রশংসা করেছেন বিমস। তার মতে, বিগ ব্যাশে প্রথমবার খেলতে নেমে প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে উইকেট পাওয়া রিশাদের সামর্থ্যেরই প্রমাণ।
বিমসের ভাষায়, ‘গত মৌসুমে রিশাদ আমাদের হয়ে অসাধারণ খেলেছে। প্রথমবার বিগ ব্যাশে এসে প্রতিটি ম্যাচ খেলা এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়া তার দক্ষতা ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তুলে ধরে।’
রিশাদ ও জাম্পার বোলিংয়ের ধরনে ভিন্নতা থাকায় দল আরও বেশি বিকল্প পাবে বলে মনে করছেন হ্যারিকেনসের এই কর্মকর্তা। বিশেষ করে ম্যাচের মাঝের ওভারগুলোতে এবং প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন অনুযায়ী বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে দুজনকে কাজে লাগাতে পারবে দলটি।
বিমস বলেন, ‘আমাদের দলে এখন দুজন উচ্চমানের লেগ স্পিনার রয়েছে, যারা ভিন্ন ভিন্ন শক্তি নিয়ে আসবেন। কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের ব্যবহার করার দারুণ সুযোগ থাকবে।’
হোবার্ট হ্যারিকেনসের স্কোয়াড: মার্কাস বিন, ইয়ান কার্লাইল, নিখিল চৌধুরী, টিম ডেভিড, নাথান এলিস, রিশাদ হোসেন, নিক হবসন, শাই হোপ, বেন ম্যাকডারমট, রাইলি মেরেডিথ, মিচ ওয়েন, উইল প্রেস্টউইজ, বিলি স্ট্যানলেক, টিম ওয়ার্ড, জেক ওয়েদারাল্ড, বিউ ওয়েবস্টার ও অ্যাডাম জাম্পা।