আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন আগেই। তবে লাল বলের প্রতি ভালোবাসা আর উইকেট নেওয়ার ক্ষুধা তাকে থামতে দেয়নি। ৪৪ বছর বয়সেও কাউন্টি ক্রিকেটে বল হাতে দাপট দেখাচ্ছিলেন জেমস অ্যান্ডারসন। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘ ক্রিকেটযাত্রায় যবনিকা নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এই পেসারকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ল্যাঙ্কাশায়ার। ফলে ২৬ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ করার কথা ভাবতে হতে পারে কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারকে।
দ্য টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে ওল্ড ট্রাফোর্ডে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না অ্যান্ডারসন। ওই গ্রীষ্মেই ৪৫ বছরে পা দেবেন তিনি। তবে এখনই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। অন্য কোনো কাউন্টি দলের হয়ে খেলে পেশাদার ক্যারিয়ার দীর্ঘ করার চেষ্টাও করতে পারেন এই পেসার।
২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে বাধ্য হওয়ার পরও ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অ্যান্ডারসন। গত মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দলটির অধিনায়কত্বও করেছেন। কিন্তু ল্যাঙ্কাশায়ারের সময়টা ভালো কাটেনি। দ্বিতীয় বিভাগে তলানির দলের কাছে থেকে মৌসুম শেষ করেছে তারা।
তবে দলের ব্যর্থতার মধ্যেও অ্যান্ডারসনের পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল। ২০২৬ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ৫০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ডিভিশন টুতে তার চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন মাত্র ছয়জন বোলার। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ল্যাঙ্কাশায়ারের চ্যাম্পিয়নশিপের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অ্যান্ডারসনের শিকার ৪৪৩ উইকেট। এ ছাড়া দলটির হয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৮৩টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৫০টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। এমন পরিসংখ্যানের পরও নতুন চুক্তি না পাওয়ার খবরে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।