তাসকিন আহমেদের হাতে বল। শেষ ওভারে জয়ের জন্য শেখ জামালের প্রয়োজন ৭ রান। প্রথম বলে রান আউট। পরের বলে নাজমুস সাদাতকে বোল্ড করলেন তাসকিন। পরের তিন বলে দিলেন মাত্র ২ রান। ততক্ষণে ব্যাকফুটে শেখ জামাল। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৫ রান। ক্রিজে মুক্তার আলী। তাসকিনকে লং অনের উপর দিয়ে বিশাল একটি ছ্ক্কা মারলেন তিনি। তাতেই আবাহনীর বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আবাহনীর শুরুটা খারাপ হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ রান যোগ করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও অভিষেক মিত্র। ২১ রান করে অভিষেক আউট হলে লিটন কুমার দাস মাঠে নামেন। কিন্তু অনেকদিন ধরেই নিজের ছায়া হয়ে থাকা লিটন ৫ রান করেই সাজঘরের পথ ধরেন।
এরপর ভারত থেকে উড়িয়ে আনা বাঁহাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান উদয় কাউলের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৮০ রানের জুটি গড়েন তামিম। এসময় সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যাক্তিগত ৯০ রানে গিয়ে থামতে হয় তাকে। ১১টি চারে ৯০ রান তুলতে তামিম বল খরচা করেছেন ৯১টি।
উদয় কাউলের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রান। ২৮৭ রান তুলতে বাকি কাজটুকু করেছেন দুই তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেন। শান্ত ৫২ ও মোসাদ্দেক ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন। শেখ জামালের মুক্তার আলী, সোহাগ গাজী ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট নেন।
২৮৮ রানরে লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা দারুণ করেন শেখ জামালের দুই ওপেনার জয়রাজ শেখ ঈমন ও মাহবুবুল করিম। দলীয় ৬৭ রানে জয়রাজ (২৬) ফিরে গেলে ক্রিজে নামেন মার্শাল আইয়্যুব। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মাহবুবুল করিম ও মার্শাল মিলে ১২৫ রানের জুটি গড়েন। তারা দুইজন ধীরস্থির ভাবে জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মার্শাল ৪৭ রান করে সাকলাইন সজিবের বলে বোল্ড হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন।
মার্শালের বিদায়ের কিছুক্ষণের মধ্যে সাজঘরে ফিরে যান ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করা মাহবুবুল করিম। তিনি ১১০ বলে ১৩০ রান করেছেন। ১৫টি চার ছাড়ও রয়েছে ৫টি ছয়ের মার। মাহবুবুলকে হারিয়ে সাময়িক ছন্দপতন ঘটে শেখ জামালের। মাহমুদউল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ২৭ রান করে ফিরে গেলে হারের শঙ্কা জেগে ওঠে শেখ জামালের। কিন্তু শেষ দিকে নাজমুল সাদাত ও মুক্তার আলীর দৃঢ়তায় ম্যাচ জিতে শেখ জামাল।
শেষ ওভারে যখন ৭ রান প্রয়োজন। তখন ক্রিজে সোহাগ গাজী ও মুক্তার আলী। প্রথম ৫ বলে সংগ্রহ হয় মাত্র ২ রান, দুই উইকেটের বিনিময়ে। শেষ বলে মুক্তার আলীর ছক্কায় ম্যাচ জেতে শেখ জামাল। আবাহনীর বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকলাইন সজিব ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এছাড়া তাসকিন আহমেদ একটি উইকেট নিয়েছেন।
/আরআই/এমআর/







