বাংলাদেশ সফররত ফিফা ডেভেলপমেন্ট অফিসার সাজি প্রভাকরণ মনে করেন, ফিফার নতুন আর্থিক অনুদান ও উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতায় ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন তিনি।
সাজি প্রভাকরণ বলেন, 'সকালে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে আলোচনার পর আমার মনে হয়েছে, তিনি নতুন পারিপার্শ্বিকতায় বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য যথাসম্ভব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আগ্রহী। যেহেতু এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। দুই-তিন মাস পর আমরা আবারও আসবো। তখনই হয়তো একটা চুক্তি স্বাক্ষর হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ফিফা সভাপতির নতুন যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, তার আলোকে আমরা বলতে পারি বাংলাদেশের ফুটবলের বিভিন্ন সম্ভবনাময় দিক রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।'
প্রভাকরণ মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) ও জেলা ফুটবল সংস্থার (ডিএফএ) মধ্যকার দ্বন্দ্ব বড় সমস্যা নয়। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। তবে ৬৪টি জেলায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অনেক বাধা রয়েছে। ফুটবলের উন্নয়নে সরকারকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। তবেই ফুটবল পাবে সঠিক গতি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল সংস্থার মধ্যকার দ্বন্দ্ব কোনও জটিল সমস্যা নয়। আমরা মনে করি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোনও জবাবদিহিতা নেই, কিন্তু জেলা ফুটবল সংস্থার জবাবদিহিতা আছে। কারণ জেলা ফুটবল সংস্থা শুধু ফুটবল উন্নয়নের কাজেই নিয়োজিত। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো কোথায়, তা চিহ্নিত করে এ দুটি সংস্থা একে অপরের পরিপূরক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।'
বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের সম্ভাবনাকেও বড় করে দেখছেন প্রভাকরণ। তার মতে, 'সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলে যে সাফল্য পেয়েছে, তাতে ফিফার পক্ষ থেকে অভিনন্দন তাদের প্রাপ্য। অনূর্ধ-১৪ দলের দুটি সাফল্য প্রমাণ করে মহিলা ফুটবল নিয়ে বেশ ভালো কাজ করছে বাংলাদেশ। তবে এটাও ঠিক, জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় একটি শূন্যতা। জাতীয় দল প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে মহিলা ফুটবলের জন্য নির্দিষ্ট কোনও অবকাঠামো নেই। মহিলা ফুটবলের জন্য নির্দিষ্ট একটি অবকাঠামো থাকলে তা মহিলা ফুটবলের উন্নয়নে ভাল একটি ভূমিকা রাখতে পারে। এটি ঢাকার বাইরেও হতে পারে।'
/আরএম/এমআর/








