একদিকে কোপা আমেরিকা অন্যদিকে ইউরো, একদিকে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, অন্যদিকে সারা ইউরোপ। এই দুই টুর্নামেন্ট নিয়ে উন্মাদনার কমতি নেই এশিয়া ও আফ্রিকাতেও! বলা যায়, সারাবিশ্ব এখন ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের আগে এই ফুটবল যজ্ঞ মোহিত করে রেখেছে কোটি কোটি ক্রীড়ামোদীকে। সঙ্গে এ প্রশ্নও উঠেছে, যে কোনটি সেরা কোপা আমেরিকা নাকি ইউরো?
দুই টুর্নামেন্টে দুটি ভিন্ন ঘরানার ফুটবল দর্শন উপস্থাপিত হচ্ছে মাঠে। ইউরো স্বাভাবিকভাবেই দলগত শক্তিতে এগিয়ে কারণ ইউরোতে খেলছে ২৪টি দল আর কোপা আমেরিকায় ১৬টি। ফিফা র্যাংকিংয়েও ইউরোই এগিয়ে থাকবে। কিন্তু ফুটবলে তুখোড় প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে স্বাদ তাতে কিন্তু কোপা আমেরিকা এগিয়ে, এখানে দেশগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে তা ইউরোর সব দেশের মধ্যে নেই।
ইউরোতে দেখা যায আধুুনিক ফুটবলের টেকনিক, ট্যাকটিস ও দলগত কৌশলের উপস্থাপন। যেভাবে ইতালি একটি কৌশলে খেলে শীর্ষস্থানীয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয়ী হলো তা সবারই চোখে লেগেছে। কোপা আমেরিকায়ও যে আধুনিক ফুটবলের ছোঁয়া নেই তা বললে ভুল হবে। আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়ার নিয়ন্ত্রণ ’জোগো বোনিতো’ দ্য বিউটিফুল গেমের ছোঁয়া, সর্বোপরি একক নৈপুণ্য যেন কোপা আমেরিকাকেই এগিয়ে রাখে।
এখন পর্যন্ত অন্তত দুটি নিদর্শন রয়েছে যেখানে কোপা আমেরিকা এগিয়ে আছে ইউরো থেকে। প্রথমটি হলো পানামার বিপক্ষে লিওনেল মেসির ১৯ মিনিটের হ্যাটট্রিক। বদলী খেলোয়াড় হেসেবে মাঠে নেমে তিন ধারায় তিনটি গোল করেই থেমে থাকেননি আর্জেন্টাইন সুপারস্টার সার্জিও আগুয়েরোকে চতুর্থ গোলটিও তৈরি করে দেন তিনি । মেসিকে দিয়ে তুলনাটা বাড়াবাড়ি মনে হলে দেখুন মেক্সিকোর মিডফিল্ডার জেসাস টেকাটিটো কোরোনার ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে করা গোলটি। এটি যেন মেসিরই আরেক সংস্করণ। মাঝমাঠ থেকে একাই বল নিয়ে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে ভেনেজুলোর গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে মেক্সিকোর সমতাসূচক গোল করে দলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দেন কোরোনা। খেলার ৮০ মিনিটে গোলটি করেন তিনি, দলকে রাখেন টানা ২২ ম্যাচে অপরাজিত।
৩০ গজ দৌড়ে ও বল নিয়ন্ত্রণে রেখে গোল করা খুব সহজ নয় আধুনিক ফুটবলে। তর্ক হতে পারে ভেনেজুয়েলার ডিফেন্স নিয়ে, বলা যেতে পারে তাদের ডিফেন্স দুর্বল। কিন্তু তার আগে বলতে হবে যে ভেনেজুয়েলা জামাইকাকে, ১-০, উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে এ ম্যাচ খেলতে নামে এবং তিন ম্যাচে এটি তাদের হজম করা প্রথম গোল! এ দুটো ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ভাস্বর গোলের জবাবে ইউরোর আপাতত দেওয়ার কিছু নেই, তাই কোপা আমেরিকাকে এখন পর্যন্ত এগিয়েই রাখতে হবে।
/এমআর/







