দ্রুত চিত্রপট বদলনো ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে ঢাকা আবাহনী। আগামী শুক্রবার সেমিফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ শেখ রাসেল।
আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলায় প্রথম এগিয়ে যায় ব্রাদার্স। গ্রুপ পর্বে আরামবাগের কাছে হেরে যাওয়া আবাহনী কামব্যাক করতে পারবে কিনা এমন প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে ঠিক তখনই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে জয় করায়ত্ব করে আকাশি-নীল শিবির। ম্যাচ শুরু হয়েছিল কাঠফাটা রোদে আর শেষ বৃষ্টিতে। যাতে শেষ হাসি হেসেছে আবাহনী।
আবাহনীর আক্রমণাত্মক মেজাজের বহিঃপ্রকাশ হয় খেলার প্রথম মিনিটেই, সানডে চিজোবা বল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন ব্রাদার্সের রক্ষণে। শট নেয়ার আগমুহূর্তে তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ হারান। দ্বিতীয় মিনিটে আবারও আবাহনী হানা দেয় ব্রাদার্স শিবিরে। এবার লি টাকের বাঁকানো ফ্রি-কিকে হেড করেছিলেন নাবিব নেওয়াজ জীবন। ব্রাদার্স গোলরক্ষক উত্তম বড়ুয়া পাঞ্চ করে কর্নারের বিনিময়ে দলকে বাঁচান।
নবম মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি এসে হতাশ হয় আবাহনী। মিডফিল্ডার ইমন বাবুর মাপা থ্রু পাসে ব্রাদার্স ডিফেন্স পরাস্ত হয়। লি টাক একা পেয়ে যান উত্তম রড়ুয়াকে। কিন্ত সময়ে বেশি নেওয়ায় উত্তম পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে গ্যাপ কমিয়ে ফেলেন। লি টাক বল তুলে দেন উত্তমের হাতে।
আবাহনীর আক্রমণের পালা শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ব্রাদার্সের হানা। হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড অগাস্টিন ওয়ালসন ও নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এনকোচা কিংসলি আতঙ্ক ছড়ান আবাহনীর রক্ষণে। ২৭ মিনিটে ওয়ালসনকে প্রথমে বঞ্চিত করেন আবাহনী গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। ওয়ালসনের গ্রাউন্ডার সোহেল পা দিয়ে ব্লক করলে বল আবার পেয়ে যান ওয়ালসন। এবার তার কোনাকুনি শটটি সাইডপোস্টে শিষ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
খেলার বয়স যখন আধঘণ্ট তখন ম্যাচের সবচয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ব্রাদার্সের তরুণ ফরোয়ার্ড মান্নাফ রাব্বি। পজিশন পরিবর্তন করে ডান প্রান্ত থেকে বাম প্রান্তে চলে গিয়েছিলেন ওয়ালসন। তার নিচু ক্রসে ডিফেন্স পরাস্ত হলে ফাঁকা পেস্টে বল ঠেলতে পারেননি মান্নাফ রাব্বি। তবে ৩৫ মিনিটে আর ওয়ালসনকে ঠেকাতে পারেনি আবাহনী। মাঝমাঠ থেকে শফিকুল ইসলামের চিপ বক্সের মাঝে খুঁজে পায় ওয়ালসনকে। বল মাটিতে পড়ার আগেই নিচু ভলিতে জালে বল জড়িয়ে দেন হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড। ওয়ালসন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারতেন ৩৯ মিনিটে। বক্সের ওপর থেকে নেওয়া তার জোরালো ভলিটি পেছনের দিকে শরীর ফেলে পাঞ্চ করেন সোহেল। গোল নয় কর্নার পায় ব্রাদার্স।
বিরতির পর আবাহনী সমতা আনার জন্য জোর চাপ দিলেও ফিনিশিংয়ের অভার অব্যাহত থাকে। অবশেষে ৬৯ মিনিটে উইঙ্গার ফয়সাল মাহমুদের বদলী হিসেবে মাঠে নামা জুয়েল রানা আনেন সমতা। লি টাকের নেওয়া কর্নারে হেড করে বক্সের মাঝামাঝি বল ফেলেন জীবন। জুয়েল রানা বল আয়ত্বে নিয়ে বাম পায়ের প্লেসিং শটে আনেন সমতা।
আাবহনী চাপ অব্যাহত রাখে। ৮১ মিনিটে সানডে চিজোবার করা গোলে তাতা উঠে যায় সেমিতে। লি টাকের ক্রসে বক্সের বাম প্রান্ত থেকে হেড করেছিলেন সানডে। ব্রাদার্সেও মরোক্কান ডিফেন্ডার আব্বাস ইনুসাহ হেড করে বল বাঁচাতে চেষ্টা করলেও পারেননি। ব্রাদার্স কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলে খেলা মিনিট পাঁচেক বন্ধ থাকে। পরে আবার খেলা শুরু হলেও স্কোরলাইনে আর পরিবর্তন আসেনি।
/আরএম/এমআর/








