ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আইসল্যান্ড রূপকথা চলছেই। ইংল্যান্ডের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে ইতিহাস গড়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে মাত্র তিন লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটি। আসরের অন্যতম ফেভারিট ইংলিশদের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলে জিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে তারা। এ হারে ইউরো থেকে বিদায় নিল ফেভারিট ইংল্যান্ড। দলের এই পরাজয়ের পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইংলিশ কোচ রয় হজসন।
সোমবার রাতে সেরা ষোলোর ম্যাচে ওয়েইন রুনির পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়ার এক মিনিট পরেই রাগনার সিগার্ডসনের গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। কিছুক্ষণ পরে কোলবেইন সিথোরসোনের গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় প্রথম খেলতে আসা দলটি। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা।
ফ্রান্সের নিসে আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণে শুরু থেকেই জমে ওঠা ম্যাচে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় পঞ্চম মিনিটে। সতীর্থের লম্বা করে বাড়ানো বলের পিছু ছোটা রাহিম স্টার্লিংকে বক্সের মধ্যে গোলরক্ষক ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। বলের লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়লেও রুনির গতিময় শট আটকাতে পারেননি হালডোরসান। ইংল্যান্ডের হয়ে এটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ডের ৫৩তম গোল।
ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র ৬০ সেকেন্ড। সতীর্থের ফ্রি কিক কাওরি আর্নাসনের মাথা ছোঁয়ানোর পর গোলমুখে পেয়ে যান সিগার্ডসন। সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি আইসল্যান্ডের এই ডিফেন্ডার।
অষ্টাদশ মিনিটে নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া নেওয়া করতে করতে বোভারসনের পাসে নীচু শট নেন সিথোরসন। বল জো হার্টের হাত ছুঁয়ে গড়াতে গড়াতে ঠিকানা খুঁজে পায়। শেষ পর্যন্ত ওই গোলটি জয় নিশ্চিত করে আইসল্যান্ডের।
এবারই প্রথমবারের মতো ইউরো খেলতে এসেছে আইসল্যান্ড। প্রথমবারই শেষ আটে পৌঁছে ইতিহাস গড়লো দলটি। আগামী ৩ জুলাই সেমিফাইনালে যাবার আশায় স্বাগতিক ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে তারা।
/এমআর/








