ফুটবলে 'ইতালি' নামটা শুনলেই জার্মানদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে হতাশাময় অতীত। অন্যতম পরাশক্তি হয়েও যে এই দলটির কাছে বারবার মাথা নত করে ফিরতে হয়েছে তাদের। কী বিশ্বকাপ, কী ইউরো- দুটি মেজর টুর্নামেন্টে কখনও আজ্জুরিদের হারাতে পারেনি জার্মানি। অবস্থা এমনই যে জার্মান ফুটবল ভক্তরা প্রতিপক্ষ ইতালিকে 'ইতালি কার্স' নামেই ডাকে।
ইতালি যেন দুর্বোধ্য গেরো বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য! অবশেষে সেই গেরো খুলেছে জোয়াকিম লোর শিষ্যরা! ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের কল্যাণে 'ইতালি অভিশাপ' থেকে মুক্ত হলো জার্মানি।
শনিবার রাতে পেনাল্টি শুটআউটে ইতালিকে ৬-৫ গোলে হারিয়ে জার্মানি পৌঁছেছে ইউরোর সেমিফাইনালে। ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে গোলশুন্য ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল জার্মানির এ অভিশাপ। এরপর শীর্ষ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে আটবার মুখোমুখি হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের এই দুই পরাশক্তি। প্রতিবারই জয়মাল্য শোভা পেয়েছে ইতালির গলায়। ৫৪ বছর পর জার্মানি ভেঙেছে সে অভিশাপের জাল।
দুই দলে, দুই গ্রেট গোলকিপার। জিয়ান লুইজি বুফন ও ম্যানুয়েল ন্যুয়ার। দুজনের মধ্যে বিজয়ের হাসি হাসলেন বয়সে নবীন ন্যুয়ার। আত্মতৃপ্তির হাসিতে উদ্ভাসিত ছিল তার মুখ। সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন ইতালির কাছে জার্মানির ব্যর্থতা। চারবার বিশ্বকাপ ও তিনবার ইউরো জেতা একটি দল কেন বারবার ইতালির বিপক্ষে ব্যর্থ হয় তার কোনও উত্তর তার কাছে থাকার কথা নয়! কিন্তু এদিন লিওনার্দো বোনুচ্চির শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেওয়া ন্যুয়ার স্বদেশি গ্রেটদের বলতেই পারেন, আমি সেটাই পেরেছি, যা তোমরা পারনি!
১৯৬২ সালের বিশ্বকাপের পর আবার দুই দল মুখোমুখি হয় ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে। নির্ধরিত সময় ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে ৪-৩ গোলে জেতে ইতালি। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ে খেলা ছিল গোলশুন্য ড্র। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে আবার মুখোমুখি হয় দুই দল। পাওলো রসি, তারদেলিও আলতোবেলির করা গোলে ৩-১ ব্যবধানে বিশ্বকাপ জিতে নেয় ইতালি। ১৯৮৮ সালের ইউরোর চুড়ান্ত আসরে গ্রুপ পর্যায়ে ১-১ গোলে ড্র করে দুই দল, ১৯৯৬ সালের ই্উরোতেও একই ১-১ গোলে খেলা অমীমাংসিত। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপেও জিতেছিল ইতালি। সেমিফাইনালে দেখা হয়েছিল দুই দলের। অতিরিক্ত সময়ে ২-০ গোলে হেরেছিল জার্মানি। এই না জেতার ধারাকে বলা হতো 'ইতালি কার্স' অবশেষে এ রাহুগ্রাস থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলো জার্মানি।
এ সাফল্যে হয়তো শান্তি পবেন জার্মান ফুটবলের সম্রাট ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তার নেতৃত্বে জার্মানি ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। স্টপেজ টাইমে সমতা আনে ইতালি। পরে জিয়ান্নি রিভেরার দুই গোলে অতিরিক্ত সময়ে ৪-৩ ব্যবধানে ফাইনালে পৌঁছে যায় আজ্জুরিরা। এ ম্যাচে ব্যথা নিয়েই খেলেছিলেন বেকেনবাওয়ার। ম্যাচ চলাকালীন তার 'কলার বোন' স্থান বিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। তারপরও ঘাড় সোজা রাখার জন্য হাত বেঁধে খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। সে ব্যথা হয়তো এখন ভুলবেন কাইজার খ্যাত বেকেনবাওয়ার।
/এমআর/







