জেবি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অঘটন ঘটিয়ে তারকা খচিত চট্টগ্রাম আবাহনীকে ২-০ গোলে হারিয়েছে পুরান ঢাকার দল রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি। লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর এটি প্রথম পরাজয়। অন্যদিকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে পৌঁছানো রহমতগঞ্জ এখনও অপরাজিত। এটি তাদের তৃতীয় জয়। এবারের আসরে তারা জায়ান্ট কিলার হিসেবেই খ্যাতি পেয়েছে; কারণ এর আগে তারা হারিয়েছিল শেখ রাসেলকে।
রহমতগঞ্জ যে তাদের ভোগান্তির কারণ হবে তা চট্টগ্রাম আবাহনী টের পায় খেলার পাঁচ মিনিটে। পুরান ঢাকার দলটির দুই বিদেশি অ্যাটাকার কঙ্গোর সিয়ো জুনাপিয়ো ও গাম্বিয়ার জাত্তা মোস্তফার গতি ও নিয়ন্ত্রণ আবাহনীর দুর্ভোগের কারণ হবে তার প্রথম প্রমাণ রাখেন তারা। মোস্তফার ফ্রি-কিকে প্লেস করেছিলেন জুনাপিয়ো, বল সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে এর পরের মিনিটেই গোল করে বসে রহমতগঞ্জ। জাত্তা মোস্তফার কর্নার কিকটি এসেছিল বাম প্রান্ত থেকে। মিডফিল্ডার মেহবুব হাসান নয়ন ছিলেন কাছের পোস্টে, তিনি বলে মাথা ছোঁয়ান। কিন্তু বল আছড়ে পড়ে গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার বাম হাতের পোস্টে।
পরের মিনিটগুলো অবশ্য চট্টগ্রাম আবাহনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। রহমতগঞ্জ তাদের ‘ডিফেন্স প্যাক’ করে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলা শুরু করে। বক্সে ছয়জন ডিফেন্ডার সর্বদাই মজুদ রাখে তারা, গ্যাপ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায় আবাহনীর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের। বল মারলে তা ডিফেন্ডারদের গায়ে লাগে, হেড করলে তা সোজা যায় গোলরক্ষক সাইফুল ইসলাম মাসুমের গ্লাভসে। এর মাঝে ২৪ মিনিটে বক্সের ওপর খেকে বাঁকানো ফ্রি-কিকে প্রায় গোল করে বসেছিলেন আবাহনীর মরোক্কান মিডফিল্ডার তারেক আল জানাবি। শেষ মুহূর্তে শরীর হাওয়ায় ভাসিয়ে বল পাঞ্চ করেন মাসুম। কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন দলকে।
৫৮ মিনিটে আবারও হতাশা চট্টগ্রাম আবাহনীর, মামুনুল ইসলামের কর্নারে হেড করেছিলেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার অ্যালিসন উডোকা। বল ক্রসপিসের ভেতরের কোনায় লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলটি পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার নাসিরউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
আবাহনীর দুঃসময় অব্যাহত থাকে ৭৩ মিনিটেও। এবার হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড লিওনেল প্রিউক্স বল সাইডপোস্টে লাগান। ক্রসটি দিয়েছিলেন তারেক আল জানাবি। খেলা যখন গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে তখন কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের পুরো পয়েন্ট নিশ্চিত করেন সিয়ো জুনাপিয়ো।
ছয় ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এখন রহমতগঞ্জ যৌথভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে, আবাহনীর পয়েন্ট ১১।
/আরএম/এফআইআর/







