সেই দিন এখন অতীত। সাফ অঞ্চলের এক সময়কার শক্তিশালী বাংলাদেশ এখন ব্যর্থতার অন্ধকার কুঠিরে বন্দি। যে মালদ্বীপকে হারিয়ে দিতো হেসেখেলে, সেই তাদের বিপক্ষেই বাংলাদেশের ফুটবল পেয়েছে সবশেষ লজ্জাটা। ৫-০ গোলের হারটা কঠিন এক ধাক্কাই দিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। যদিও ওই ব্যর্থতা নিয়ে কাটাছেঁড়া করার মতো হাতে সুযোগ নেই, কালই যে আবার মাঠে নেমে পড়তে হচ্ছে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে। প্রতিপক্ষ এবার ভুটান। দিন কয়েক আগের ধাক্কার পর কোনও দলকেই আসলে আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। ভুটানকেও তাই সমীহ করছেন নতুন কোচ টম সেইন্টফিট। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি দেখা যাবে বিটিভি ওয়ার্ল্ডে।
ভুটানের বিপক্ষে ইতিহাস ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও থাকছে বাংলাদেশের। দলটির বিপক্ষে কখনো হারেনি যে লাল-সবুজের দল। তবু এখনকার পরিস্থিতি বাধ্য করছে তাদের সমীহ করতে। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তাই বাস্তবতা মেনেও নিলেন সেইন্টফিট, ‘কাল আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন একটি ম্যাচ। ইতিহাস আমাদের পক্ষে। ভুটানের কাছে আমরা কখনো হারিনি। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা হলো দিন বদলে গেছে। ভুটান এখন এক শক্তিশালী দল। তারা ব্যপক উন্নতি করেছে।’ ভুটানের চেমচো গ্যালস্টেনের দিকেই বেশি নজর বেলজিয়ান কোচের, ‘ওদের আছে চেমচো গ্যালস্টেনের মতো খেলোয়াড়। যে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।’ প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এই কোচ, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ভুটানকে আমরা খাটো করে দেখছি না। সময় এসেছে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার বাংলাদেশ ফুটবলকে এই কঠিন চ্যালেঞ্জে উতরে যেতে হবে। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামবো।’
গোল তো হজম করছেই, সঙ্গে আবার গোলও করতে পারছেন না বাংলাদেশ। এই সমস্যাটাই বড় মনে করছেন সেইন্টফিট, ‘সবাই জানে বাংলাদেশ দলের মূল সমস্যা কোথায়। আমরা গোল করার বিষয়ে অনেক পিছিয়ে। তাই নজর দিতে দেখতে পাবেন আমি একটি আক্রমণাত্মক দল নির্বাচন করেছি। বাংলাদেশের গোল করতে হবে এবং ম্যাচ জিততে হলে এর বিকল্প নেই।’ মালদ্বীপের বিপর্যয় এখনও পোড়াচ্ছে বেলজিয়ান কোচকে, ‘মালদ্বীপের বিপক্ষে ৫-০ গোলের হার আমার জীবনের সব থেকে বড় ব্যর্থতা। কখনোই পাঁচ গোলে হারিনি। কিন্তু এর মাঝেও কথা আছে।’ কি কথা, শুনুন তার মুখেই, ‘নিজেকে বাঁচানোর জন্য বলছি না। প্রদর্শনী ম্যাচে স্থানীয় রেফারি দিয়ে খেলা চালালে কিছু সমস্যা আছে। মালদ্বীপের রেফারি অফসাইড দেখেনি, ফাউল দেখেনি, অনেক কিছুই হয়েছে। এর মাঝেও প্রথমার্ধটা বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছিলো। দ্বিতীয়ার্ধে সব কিছু কেমন জানি ভেঙে পড়ে। সেখানেই আমি মনযোগ দেবো।’
ভুটানের বিপক্ষে দলে নেই মামুনুল ইসলাম। অধিনায়ক হিসেবে অনেকটা সময় নেতৃত্ব দেওয়া এই মিডফিল্ডার ছাড়াও সেইন্টফিটের দলে নেই বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়। যার ব্যাখ্যাটা দিলেন বাংলাদেশ কোচ এভাবে, ‘বেশ কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় বাদ পড়েছে। যেমন মামুনুল ইসলাম। কিন্তু তার জায়গায় তরুণ আব্দুল্লাহ মোটেও খারাপ করেনি। আমার প্রতিটি বিভাগেই ব্যাকআপ রয়েছে।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘ভুটান দ্রুত গতির ফুটবল খেলে। সেভাবেই আমি আমার পরিকল্পনা সাজাবো। হোম ম্যাচে জয় অত্যন্ত জরুরি। সঙ্গে অতিথি দলকে গোল করতে না দেওয়াটাও জরুরি। দুদিকেই আমাদের লক্ষ্য থাকবে।’
সেই লক্ষ্য পূরণ করাটাই চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের। তাতে যদি ছন্দে ফেরে ছেলেদের ফুটবল!
২৩ সদস্যের স্কোয়াড: আশরাফুল ইসলাম (অধিনায়ক), রায়হান হাসান, মনসুর আমিন, তপু বর্মন, মেহেদি হাসান তপু, আতিকুর রহমান ফাহাদ, আতিকুর রহমান মিশু, শাখাওয়াত হোসেন রনি, নাবিব নেওয়াজ জীবন, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, জুয়েল রানা, এনামুল হক শরীফ, দিদারুল আলম, মেহবুব হাসান, রুবল মিয়া, রেজাউল করিম, আরিফুল ইসলাম, মামুন মিয়া, আব্দুল্লাহ, ইমন মাহমুদ, জাফর ইকবাল, শহিদুল আলম ও সোহেল রানা।
/আরএম/কেআর-আপ-এফআইআর/








