লালের আভা নয়, নীল সমুদ্রের ঢেউ উঠল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। ম্যানচেস্টারকে ‘ফুটবল রাজধানী’তে রুপ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা পেপ গার্দিওলা-হোসে মরিনহোর লড়াইয়ে বিশ্ব দেখল নতুন ম্যানচেস্টার সিটিকে। বিপরীতে হতাশার আরেকটি অধ্যায় খুলে নতুন লজ্জায় ‘লাল’ হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কেভিন ডি ব্রুইনের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ‘ফুটবল রাজধানী’র কর্তৃত্ব এখন সিটিজেনদের হাতে। ম্যানইউকে তাদের মাঠেই যে হারিয়ে এসেছে ২-১ গোলে।
একসঙ্গে বিয়ার পান করতেও রাজি তিনি। এ কোন হোসে মরিনহো! যার সঙ্গে পেশাদারী জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রুতা, সেই পেপ গার্দিওলার সঙ্গে বসতে রাজি পতুর্গিজ কোচ! সত্যিই বদলে গেছে তাদের সম্পর্ক। নইলে ম্যাচ শুরুর আগে ও পরে অমন দৃশ্য যে খুব বেশি দেখা যায়নি তাদের। গার্দিওলা-মরিনহোর সম্পর্ক অন্য রুপে ধরা দিলেও মাঠের ফুটবলের দৃশ্যটা বদলানো না। সেই গার্দিওলার দাপটের সামনে মাথা নত করতে হলো মরিনহোকে। এল ক্লাসিকো কিংবা বায়ার্ন-চেলসি ম্যাচের মতো আরও একবার হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো মরিনহোকে। এবার সঙ্গী করে তার ম্যানইউ।
কে বলবে ঘরের মাঠ! মনে হচ্ছিল ম্যানইউ যেন খেলতে এসেছে ম্যানসিটির মাঠে। গার্দিওলার অধীনে বদলে যাওয়া সিটিজেনদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ‘রেড ডেভিলরা’। হ্যা ম্যানইউ সমর্থকরা দাবি তুলতে পারে ওয়েইন রুনিকে যেভাবে ফাউল করেছিলেন ক্লাউদিও ব্রাভো, তাতে পেনাল্টি পায় তারা। ম্যানসিটি ভক্তরাও তো জোর গলায় বলতে পারে দুই দুইবার পোস্টে লেগে বল প্রতিহত না হলে গোল সংখ্যা আরও বাড়তই তাদের। প্রশ্ন পাল্টা প্রশ্ন থাকবেই, এর পরও হয়তো ম্যানইউয়ের সমর্থকরা নিজেদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। প্রথমার্ধে যা বা একটু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছে, দ্বিতীয়ার্ধে তো তাও পারেনি। ম্যানসিটির একের পর এক আক্রমণ সামলাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের।
ম্যাচে হওয়া তিন গোলের সবক’টাই অবশ্য হয়েছে প্রথমার্ধে। ১৫ মিনিটে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে স্তব্ধতা নেমে আসে ডি ব্রুইনের গোলে। বেলজিয়ান মিডফিল্ডার ম্যানসিটি ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচটা হয়তো খেলেছেন আজ। নিজেদের সীমানা থেকে কোলারভের লম্বা পাস ইহেয়ানাচোর হেড হয়ে ফাকায় বল পেয়ে যান ডি ব্রুইন। সামনে থাকা গোলরক্ষক দাভিদ দে গেয়াকে ফাঁকি দিতে কোনও সমস্যাই হয়নি তাদের। ৩৬ মিনিটের গোলটিকেও অবদান আছেন এই বেলজিয়ানের। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়ার তার শট পোস্টে লেগে এসেছিল ফিরে, সেই বল জালে জড়াতে যা একটু কষ্ট হয়েছিল ইহেয়ানাচোর। মিনিট ছয়েক পরই অবশ্য জবাবটা দিয়েছিল ম্যানইউ। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রমাণ করা জলাতান ইব্রাহিমোভিচ লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাভোর ভুলে।
পিছিয়ে থাকা ম্যানইউকে দ্বিতীয়ার্ধে ঠিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের চেয়ে বরং আরও বেশি দাপট দেখিয়েছে সিটিজেনরা। বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হয়েছে তাদের পোস্ট কিংবা দে গেয়ার দুর্দান্ত সেভে। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারলেও ম্যানচেস্টার ডার্বি জয়ের পথটা আগেই ঠিক করে রেখেছিল সিটিজেনরা।
তাই ম্যানচেস্টারের রঙ এখন নীল!
/কেআর/








