উত্তেজনা বলতে যা বোঝায়, তার সব কিছুই মঞ্চায়িত হলো ভ্যালেন্সিয়া-বার্সেলোনা ম্যাচে। শুরুতে বার্সেলোনার এগিয়ে যাওয়া, দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরে ভ্যালেন্সিয়ার এগিয়ে যাওয়া। এর পর ঘুরে দাঁড়িয়ে বার্সেলোনার সমতায় ফেরা এবং ইনজুরি টাইমের পেনাল্টি গোলে কাতালান ক্লাবটির ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া। সেই সঙ্গে আরও একটি লিওনেল মেসির জাদুকরী ম্যাচ দেখতে পেল ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টাইন তারকার জোড়া গোলেই তো ৩ পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে বার্সেলোনা।
মেস্তালার ম্যাচের সারাংশটা এমনই। তবে পেনাল্টি গোলের পর যা ঘটলো, সেটা কোনও ভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না। ক্ষুব্ধ ভ্যালেন্সিয়া সমর্থকদের বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের দিকে বোতল ছুঁড়ে মারাটা ফুটবলের জন্য অনাকাঙ্খিত ঘটনাই। শেষ মুহূর্তের গোলে হারের দুঃখটা মেনে নিতে পারেনি তারা।
বার্সেলোনার শুরুটা হয়েছিল বড় এক ধাক্কা দিয়ে। ১৪তম মিনিটে হাঁটুতে মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। তাতে যেন সফরকারীরা আরও চড়াও হয় ভ্যালেন্সিয়ার ওপর। গোলও পেয়ে যায় ২২ মিনিটে। চ্যাম্পিয়নস লিগের আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক পাওয়া মেসি জ্বলে উঠলেন আবার। বক্সের সামান্য একটু ভেতর থেকে আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরের বাঁ পায়ে নেওয়া শট আশ্রয় নেয় জালে। ওই গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু বিরতি থেকে ফেরার পর ৫২ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া সমতায় ফেরে বার্সেলোনারই এক খেলোয়াড়ের গোলে! চলতি মৌসুমেই কাতালান ক্লাব থেকে ধারে ভ্যালেন্সিয়ায় যোগ দেওয়া মুনির এল হাদাদি বল জালে জড়িয়েও কোনও উল্লাস করলেন না। মিনিট চারেক পর আবারও বার্সার জালে বল জড়ায় স্বাগতিকরা, এবার লক্ষ্যভেদ করেন রোদ্রিগো।
সমতায় ফিরতে বার্সেলোনার খুব বেশি সময় লাগেনি। ৬২ মিনিটে কাতালানদের খেলায় ফেরান লুই সুয়ারেস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করেছিলেন ইভান রাকিটিচ, ঝাঁপিয়ে ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক ডিয়েগো আলভেস ঠেকালেও ফিরতি বলে বুলেট গতির শটে জালে পাঠিয়ে দেন সুয়ারেস।
ম্যাচ এর পর ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও যে স্কোর লাইন ছিল ২-২ সমতায়! কিন্তু যে দলে মেসির মতো খেলোয়াড় আছে, তাদের আসলে খুব বেশি দুঃশ্চিন্তা না করলেও চলে। দরকারের সময় আবারও জ্বলে উঠলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সুয়ারেসকে বক্সের ভেতর ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় বার্সা, আর ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন মেসি।
/কেআর/








