বাংলাদেশ ফুটবেলর অকৃত্রিম বন্ধুই বলা যায় ফিফা সিনিয়র ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার মাইক ফিস্টারকে। ১৯৯৫-৯৬ সালে তার বাবা অটো ফিস্টার যখন বাংলদেশের কোচ, তখন ঢাকায় প্রথম বিভাগ ফুটবল খেলেছেন ফরাশগঞ্জের হয়ে, পড়তেন আট নম্বর জার্সি। বাবা অটো ফিস্টার ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে বাংলাদেশকে প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা এনে দেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে সৌদি আরব ও টোগোকে নিয়ে যান বিশ্বকাপে। সেই মাইক ফিস্টার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কোচ না হলেও, ফুটবল উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন ফিফায়।
এ নিয়েই বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন মাইক ফিস্টার, ‘আমি ফরাশগঞ্জের সেই জার্সিটা এখনও রেখে দিয়েছি। ভাবতে অবাক লাগে, বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের যে অবস্থা ছিল, তা বদলায়নি। আমার মনে আছে, আমরা রিক্সা করে অনুশীলনের জন্য মাঠ খুঁজতে বের হতাম,নির্দিষ্ট কোনও মাঠ ছিল না ক্লাবের। এখনও দেখি একই অবস্থা।’
তবে বাংলাদেশের ফুটবলের প্রশংসা করেছেন মাইক। সঙ্গে দিয়েছেন কিছু দিক নির্দেশনাও, ‘মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ এখন একটি উজ্জ্বল আলো। এখানে কাজ করলে সাফল্য ও সম্ভাবনা আছে। অবকাঠামোতে পূর্ণ পেশাদারিত্ব আনাটাও জরুরি। অবকাঠামো উন্নয়নে কঠিন চ্যালেঞ্জ সব সময়ই থাকে। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে। আগামী দু’বছর বাফুফের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে হবে। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতে হবে । তৃণমূল পর্যায়ে একজন কোচকে ফুটবল নেতা হিসেবে তৈরি করা জরুরি। আর বাফুফের একাডেমি বন্ধ হয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। সরকরের সঙ্গে এ ব্যাপারে বাফুফের আলোচনা করে এটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। বাফুফে একাডেমির জন্য নির্ধারিত টাকা এখনো ফিফার কোষাগারে জমা আছে।’
বাবা অটো ফিস্টার সম্পর্কে মাইক বলেন, ’বাংলাদেশের কথা ভোলেননি তিনি, মাঝেমধ্যেই উঠে আসে এ দেশের কথা। গত বছরও আলজেরিয়ায় কোচিং করিয়েছেন আমার ৭৮ বছরের বাবা। ফুটবলই তার ধ্যান জ্ঞান।’
উল্লেখ্য, কাল সকালে বাংলাদেশ ছাড়ছে চার দিনের সফরে আসা মাইক ফিস্টারের নেতৃত্বাধীন ফিফা প্রতিনিধি দল।
/এফআইআর/








