বাজে সময় কাটিয়ে উঠতে পারছে না রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগায় জিরোনার মাঠে হেরেছিল তারা। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগেও হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো। ওয়েম্বলিতে তাদের বিপক্ষে ৩-১ গোলের দারুণ জয় পেয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। বুধবারের এই জয়ে ২০১১ সালের পর প্রথমবার ইউরোপের শীর্ষ মঞ্চে শেষ ষোলোর টিকিট কাটলো তারা।
ম্যাচের প্রথম সুযোগ পায় রিয়াল ৩ মিনিটে। মার্সেলোর ক্রস ডানপ্রান্ত থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এগিয়ে দেন ইসকোকে। ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট গোলপোস্টের মাঝখানে দাঁড়ানো হুগো লরিস সহজে আটকে দেন। এরপর টটেননহ্যাম পায় চমৎকার সুযোগ। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ১০ মিনিটে গোলমুখের দিকে ছোটা ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে শট নেওয়ার সময় বল কেড়ে নেন রিয়াল অধিনায়ক সের্হিয়ো রামোস। ২৩ মিনিটে স্বাগতিকদের ডিবক্সে ঢুকে গোলমুখে শট নিতে গিয়েও ভারটনঘেনের কারণে পারেননি রোনালদো।
লক্ষ্যে শট নেওয়ায় রিয়াল এগিয়ে থাকলেও টটেনহ্যাম তাদের দ্বিতীয় সুযোগে পেয়ে যায় গোল। দারুণ ক্রস-ফিল্ড পাসে ডানপ্রান্তে বল পায়ে পান ট্রিপিয়ার, চমৎকার পাসে তিনি বল পাঠান রিয়ালের পেনাল্টি এলাকায়। সেখানে নাচো ও গোলরক্ষক কিকো ক্যাসিয়াকে পরাস্ত করে ডেলে আলী বল ঠেলে দেন রিয়ালের জালে। এক গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ৩০ মিনিটে কাসেমিরোর নিচু স্ট্রাইক দারুণ ডাইভে রুখে দেন লরিস। দুই মিনিট পর প্রতিপক্ষের ডিবক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারের বাধায় রোনালদো গোলপোস্টের বাইরে শট নিতে বাধ্য হন। পর্তুগিজ তারকার সুবর্ণ সুযোগ সফল হয়নি লরিসের ৩৮ মিনিটের প্রতিরোধে। বিরতির দুই মিনিট আগে স্পার গোলরক্ষকের কারণে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হন করিম বেনজিমা।
বিরতি থেকে ফিরে স্পারদের রক্ষণভাগ হয়ে ওঠে আরও শক্তিশালী, যা ভাঙতে পারেনি রিয়াল। বরং আক্রমণে মনোযোগ দেওয়ায় অতিথি দলটির রক্ষণভাগ হয়ে পড়ে দুর্বল। এ সুযোগে ৫৬ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় কাসেমিরোকে পেছনে ফেলে রিয়ালের ডিবক্সে ঢুকে যান আলী। তার শট রামোসের পায়ে লেগে ঢুকে যায় জালে। আরেক গোলের ধাক্কা রিয়াল সামলে ওঠার আগেই ৬৫ মিনিটে তাদের জালে তৃতীয়বার বল পাঠায় স্বাগতিকরা। আলীর পাস থেকে হ্যারি কেন বল বাড়িয়ে দেন সামনে, ক্ষিপ্র গতিতে রিয়ালের ডিবক্সে ঢুকে লক্ষ্যভেদী শট নেন এরিকসেন।
৭৯ মিনিটে জটলা থেকে গোল করেন রোনালদো। কিন্তু দলকে সমতা ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় দুই গোল আর পায়নি ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।
‘এইচ’ গ্রুপের এই জয়ে টটেনহ্যাম ৪ ম্যাচে পেলো ১০ পয়েন্ট। রিয়াল ৭ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকলো। চার ম্যাচ শেষে এখনও জয়ের দেখা পেলো না বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও আপোয়েল নিকোশিয়া। মুখোমুখি লড়াইয়ে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। দুই দলেরই সমান ২টি করে পয়েন্ট।
এদিকে নাপোলির মাঠে রোমাঞ্চকর জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। গোল-পাল্টা গোলের ম্যাচে ৪-২ গোলে জিতেছে ইংলিশ জায়ান্টরা। ‘এফ’ গ্রুপে শতভাগ সফলতা ধরে রেখে ১২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব উতরে গেলো পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ২১ মিনিটে ইনসিগনের গোলে এগিয়ে যায় নাপোলি। নিকোলাস ওতামেন্দি ৩৪ মিনিটে ম্যানসিটিকে সমতায় ফেরান।
বিরতির পর তৃতীয় মিনিটে সিটিজেনদের এগিয়ে দেন স্টোনস। ৬২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জর্জিনোর গোলে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায় নাপোলি। অবশ্য ৭ মিনিট পর রেকর্ড গোল করে ম্যানসিটিকে এগিয়ে দেন সের্হিয়ো আগুয়েরো। ১৭৮তম গোল করে ক্লাবের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা এখন তিনি। নাপোলিকে আর কোনও সুযোগ না দিয়ে ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্টারলিং করেন চতুর্থ গোল। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ফেনুর্দকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় শাখতার দোনেৎস্ক।
‘ই’ গ্রুপে লিভারপুল টানা দ্বিতীয় জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এনফিল্ডে দ্বিতীয়ার্ধের গোলে এনকে মারিবোরকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা। মোহামেদ সালাহ, এমরে ক্যান ও স্টুরিজ করেন গোল। ৪ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট তাদের। গ্রুপের আরেক ম্যাচে সেভিয়া ২-১ গোলে স্পার্তাক মস্কোকে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে গেছে।
উড়তে থাকা বেসিকতাস হোঁচট খেয়েছে এএস মোনাকোর কাছে। তিন ম্যাচ জয়ের পর ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। অবশ্য ‘জি’ গ্রুপে ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। লিপজিগকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৬ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানে এফসি পোর্তো।








