বাফুফে ভবন সংলগ্ন অ্যাস্ট্রো টার্ফে যেন সাবেক তারকাদের মিলনমেলা। উপলক্ষ্য এএফসি ‘এ’ লাইসেন্স। ২০১০ সালে সর্বশেষ এই কোর্স হয়েছিল। এবার ২৪ জন সাবেক ফুটবলার আছেন। আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তারা পরীক্ষা দিয়ে যাবেন। সবার লক্ষ্য লাইসেন্স নিয়ে ডাগআউটে দাঁড়ানো।
তবে লাইসেন্স পেলেই যে ভালো দলের কোচ হতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। মারুফুল হকের কথাই ধরা যাক। দেশের সর্বোচ্চ লাইসেন্স প্রাপ্ত (উয়েফা ‘এ’) হলেও তিনি কাজ করছেন মাঝারি মানের দল আরামবাগে।
বর্তমানে যারা এএফসি ‘এ’ লাইসেন্স পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের সবার আশা প্রিমিয়ার লিগের কোনও দলের কোচ হওয়ার। কিন্তু এই আশা পূরণের নিশ্চয়তা নেই। এই যেমন সাবেক তারকা ফুটবলার জুয়েল রানা। ১৯৯৯ সালে তার নেতৃত্বেই কাঠমান্ডু সাফ গেমসের ফুটবলে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। অবসরের পর বেছে নেন কোচিং-জীবন। ২০০৯ সালে মোহামেডান দিয়ে শুরু কোচিং ক্যারিয়ার। এরপর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কোচের দায়িত্ব পালন করলেও এই মৌসুমে তিনি শুধুই দর্শক।
স্পষ্টভাষী জুয়েল রানা সোজা-সাপ্টা কথা বলতে পছন্দ করেন। দীর্ঘ সাত বছর পর এএফসি ‘এ’ লাইসেন্স কোর্সে অংশ নিচ্ছেন কোচিং ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে। বাফুফে ভবনে সাবেক তারকা ডিফেন্ডার বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, “অনেকদিন পর ‘এ’ লাইসেন্স করার সুযোগ এসেছে। তাই কোর্সটা হাতছাড়া করলাম না। ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। আসলে ফুটবলে আধুনিক জ্ঞান ছাড়া এগোনো কঠিন। চেষ্টা করছি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে।”
কোর্স করছেন, পাশাপাশি শঙ্কাও কাজ করছে জুয়েল রানার মনে, “এখান থেকে ‘এ’ লাইসেন্স কোচ বের হলেও তারা কাজ পাবে কিনা বলা মুশকিল। অনেক ক্লাবই বিদেশি কোচ নিয়ে আসে। বাকি ক্লাবগুলোতে স্থানীয় অভিজ্ঞ কোচ কাজ করেন। তাই ইচ্ছা থাকলেও কাজ করার সুযোগ কমই পাই আমরা।”
অবশ্য এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না তিনি, ‘আসলে পেশাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং, নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয়। শুধু কোর্স করলেই চলবে না, ভালো কিছু করার, নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জও নিতে হবে।’








