বাংলাদেশে তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়াতেও তিনিই একমাত্র উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্স প্রাপ্ত কোচ। লন্ডন থেকে ২০১৫ সালে এই লাইসেন্স পেয়েছিলেন মারুফুল হক। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচের সামনে এবার নিজেকে সমৃদ্ধ করার দারুণ সুযোগ। আগামী বছরের ৮ মে থেকে ৮ জুন স্পেনের বার্সেলোনায় একটি কোচিং কোর্সে অংশ নেবেন তিনি।
বার্সেলোনায় মেকিং বেটার প্রফেশনাল স্কুলে দুটি কোচিং কোর্স আছে- মাস্টার ইন কোচিং ও এক্সপার্ট ইন ইয়ুথ কোচিং। মারুফের আগ্রহ পরেরটিতে, উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্স থাকায় প্রথমটিতে তার আগ্রহ নেই। যুব পর্যায়ে কাজ করার জন্য এক্সপার্ট ইন ইয়ুথ কোচিং সার্টিফিকেট প্রয়োজন। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও দরকার এই সার্টিফিকেট।
মারুফ বাংলা ট্রিবিউনকে সে কথাই বললেন, ‘দেশে কিংবা বিদেশে এই কোর্সের গুরুত্ব অনেক। যুব পর্যায়ে কাজ করতে এমন সার্টিফিকেট লাগে, নইলে কাজ করা কঠিন। দেখা গেছে, বিদেশে এক বছর ধরে চেষ্টা করেও কাজ পাইনি। দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা অনেকটা এগোলেও এক পর্যায়ে তারা দ্বিধায় পড়ে যায়। বাংলাদেশের মতো দেশের কোচ কী করতে পারবে ভেবে তারা পিছিয়ে যায়।’
মারুফের লক্ষ্য, দেশের বাইরে একাডেমি পর্যায়ে কোচিং করানো। বিদেশে অভিজ্ঞতা আর সার্টিফিকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার ব্যাখ্যা, ‘একাডেমি পর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেট দেখা হয়। তাই ভেবে দেখলাম, বাইরে কাজ করার জন্য একাডেমি দিয়ে শুরু করাই ভালো। ভবিষ্যতে দেশেও ভালো মানের একাডেমি হলে সার্টিফিকেট দরকার হতে পারে। তাই বার্সেলোনায় যাচ্ছি।’
বার্সেলোনায় কোর্স করতে ফি হিসেবে সাড়ে তিন হাজার ইউরো দিতে হবে মারুফকে। থাকা-খাওয়ার খরচও নিজের। নিউইয়র্ক রেড বুলসের কাজের জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন, গত জানুয়ারিতে কথাবার্তাও এগিয়েছিল অনেক দূর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘না’ হয়ে যায়। বার্সেলোনায় সার্টিফিকেট পেলে ভবিষ্যতে কাজ পেতে সমস্যা হবে না বলেই মারুফের বিশ্বাস।
বার্সেলোনা মানেই লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, লুই সুয়ারেসদের ফুটবল-জাদু। ক্লাব সংলগ্ন স্কুলেই কোচিং কোর্স হবে মারুফের। তিনি জানালেন, ‘বার্সার একাডেমি লা মাসিয়াতে একটি সেশন আছে, সেখানে ব্যবহারিক ক্লাস হবে, ক্লাব পরিদর্শনে যাওয়ার সুযোগও পাবো। বার্সার অনুশীলনও দেখতে পারবো বলে শুনেছি।’








