জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়াচ্ছে পাহাড়ের মেয়েরা। পড়ালেখার পাশাপাশি ফুটবলকে ভালোবেসে এখন লাল-সবুজের জার্সিতে দেশের নাম ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্বের বুকে। ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া পাহাড়ের কিশোরীরা আলো ছড়াচ্ছে সারা দেশে। তাদেরই একজন মনিকা চাকমা দুর্দান্ত খেলেছে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের হয়ে। রবিবার ফাইনালের আগে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মনিকা চাকমার পারফরম্যান্সে ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ভারতকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
৭ নম্বর জার্সি গায়ে খেলা মনিকা গত বছর তাজিকিস্তানের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে করেছিল ২ গোল। এর আগে থাইল্যান্ডে এশিয়া অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়নশিপেও দুর্দান্ত খেলেছিল এই ‘পাহাড়ি-কন্যা’।
২০১২ সালে বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় রাঙামাটির ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়। সেই দলে ছিল মনিকা চাকমা। শুধু সে নয়, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলে মনিকাসহ খেলছে এখন এই স্কুলের পাঁচজন। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর তাদের পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। মনিকা ইতিমধ্যে করেছে ৫ গোল। বাকিরা হলো- আনুচিং মারমা, আরাই মারমা, রুপনা চাকমা ও রিতু চাকমা। গত বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে জোড়া লক্ষ্যভেদ করেছিল মনিকা।
মনিকার বাড়ি খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে। কৃষক বাবার মেয়ে পড়ছে এখন ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে। মনিকার মতো দশম শ্রেণির ছাত্রী অনুচিং মারমা ও আরাই মারমা আবার জমজ বোন। রুপনা চাকমা এবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, আর রিতু চাকমা পড়ছে সপ্তম শ্রেণিতে।
স্কুল পর্যায়ের ফুটবল থেকে খুদে এই ফুটবলারদের ওঠে আসার গল্পটা একটু অন্যরকম। শান্তি মনি চাকমা নামের একজন ভীষণ ফুটবলপ্রেমী। তিনি এই মেয়েদের বিভিন্ন জায়গা থেকে খুঁজে বের করে সবাইকে ভর্তি করান ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানেই নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়াচ্ছে মনিকারা।
দুর্গম এলাকার মনিকাদের গোটা বাংলাদেশে নাম ছড়িয়ে যাওয়ার গল্প শোনালেন তাদের কোচ শান্তি মনি চাকমা, ‘২০১২ সালে যখন বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট শুরু হয়, তখন থেকে তাদের খুঁজে বের করে দল তৈরি করি। তখন আমরা জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। ওদের নিয়ে আমি গর্ববোধ করি। দুর্গম এলাকায় থেকেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়াচ্ছে তারা।’
সঙ্গে যোগ করলেন, ‘এসব ছাত্রীদের জন্য থাকা-খাওয়া বড় সমস্যা। গত জুনে মাঠে পানি ওঠায় পলি জমে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে জিওসি খেলোয়াড়দের জন্য ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন। এভাবে যদি সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে আরও মেয়ে ফুটবলার তৈরি করা সম্ভব।’








