বাফুফে ভবনে এখন সাজ সাজ রব, যেন বিয়েবাড়ির উৎসব। হওয়ারই কথা অবশ্য। রবিবার প্রথম সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয়ে প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিয়েছেন মারিয়া-তহুরা-আঁখিরা। মেয়েদের ফুটবল যে এগিয়ে চলেছে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ ঢাকার এই প্রতিযোগিতা। বিজয়ের মাসে এমন দুর্দান্ত উপহার পেয়ে দেশজুড়ে আনন্দের জোয়ার। তবে এখানেই না থেমে মেয়েদের ফুটবল নিয়ে অনেকদূর যাওয়ার স্বপ্ন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের চোখে। স্বপ্নটা বিশ্বকাপ ঘিরে!
আগামী বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটবে বাংলাদেশের মেয়েদের। ২০১৮ সালে রেকর্ড ছয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে তারা। এর মধ্যে সাফ প্রতিযোগিতা তিনটি, অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৮ আর জাতীয় দলের টুর্নামেন্ট। এছাড়া এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৯ আর ফুটবলের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ফুটসালে অংশ নেবেন সাবিনা-কৃষ্ণা-সানজিদারা। সাফের তিনটি প্রতিযোগিতা সরাসরি খেললেও এএফসির প্রতিযোগিতায় খেলতে হবে বাছাই পর্বে। বাছাই পর্ব পেরোতে পারলে মূল পর্ব, আর মূল পর্বে ভালো করতে পারলে বিশ্বকাপের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ!
যদিও বিশ্বকাপ অনেক দূরের পথ, তবু সেদিকে চোখ রেখেই এগিয়ে যেতে চাইছে বাফুফে। আপাতত মেয়েদের ছুটি, আবার ক্যাম্প শুরু হবে আগামী ১০ জানুয়ারি। ক্যাম্পে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিলেন বাফুফের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা সালাউদ্দিন। সোমবার বাফুফে ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তারকা ফুটবলার বললেন, ‘প্রথমে মেয়েদের অভিনন্দন জানাই। ওরা সাফ অনূর্ধ-১৫ ফুটবলের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, ওরা ৯০ মিনিট খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মাঠে ওদের ৯০ মিনিট লড়াইয়ের পেছনে ছিল দেড় থেকে দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম আর অনুশীলন।’
মেয়েদের ফুটবল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি সালাউদ্দিনের, ‘এই দল নিয়ে চার বছর কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যেতে চাই। সামনে অনেক টুর্নামেন্ট। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বকে টার্গেট করেছি আমরা। কিছুদিন আগে মেয়েরা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। তার মানে আমরা এখন এশিয়ার সেরা আট দলের মধ্যে আছি। সেরা আট থেকে আমাদের তিনের মধ্যে আসতে হবে, আর সেজন্য পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ। আমরা সবাই মেয়েদের পাশে দাঁড়ালে অবশ্যই স্বপ্ন সফল হবে।’
মেয়েদের ফুটবলকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। লক্ষ্যপূরণে সরকার সহ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করে সালাউদ্দিনের মন্তব্য, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই উনার সঙ্গে আবার বসবো। আমরা বছরে ৩ কোটি টাকা পেলে মেয়েদের নিয়মিত ট্রেনিং আর কোচিং স্টাফের বেতন দিতে পারবো। মেয়েদের বেতনও দিতে পারবো নিয়মিত।’
সংবাদ সম্মেলনের পর সালাউদ্দিনের হাতে ট্রফি তুলে দেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা ও টুর্নামেন্ট সেরা আঁখি খাতুন। এসময় মারিয়া বললেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আপনার (সালাউদ্দিন) হাতে ট্রফি তুলে দিতে চেয়েছিলাম। আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।’








