বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। ১৭ রাউন্ড পর্যন্ত শীর্ষে ছিল তারা। অনেকেই ভেবেছিল, গতবারের রানার্স-আপদের ঘরে শিরোপা উঠতে যাচ্ছে এবার। কিন্তু পরের তিন ম্যাচে দুই হার আর এক ড্রয়ে চট্টগ্রামের দলটির শিরোপা-স্বপ্ন প্রায় শেষ। কোচ সাইফুল বারী টিটু পর্যন্ত আশা ছেড়ে দিয়েছেন!
ঢাকা আবাহনী, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব আর চট্টগ্রাম আবাহনীর আর দুটি করে ম্যাচ বাকি। ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী। এক পয়েন্ট পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানে শেখ জামাল। তৃতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীর সংগ্রহ ৪৩ পয়েন্ট। আগামী শুক্রবার শেখ জামালকে হারাতে পারলে ঢাকা আবাহনী ধরে রাখবে শিরোপা। ম্যাচটা ড্র হলেও দু দলের সামনেই থাকবে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা। তাই বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও চট্টগ্রাম আবাহনীর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা কমই বলা যায়।
এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ভীষণ হতাশ টিটু। সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ বললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্য নেই আমাদের। গোল করতে না পারলে ম্যাচ জিতবো কী করে? শেখ জামাল আর ঢাকা আবাহনী নিয়মিত গোল পাচ্ছে, কিন্তু আমরা তেমন গোল পাচ্ছি না। এই পর্যায়ে এসে আমার মনে হচ্ছে, আমাদের সামর্থ্য এতটুকুই।’
এখনও শিরোপা জয়ের গাণিতিক সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তববাদী হওয়ার চেষ্টা করছেন টিটু, ‘আমরা লিগের ১৭ রাউন্ড পর্যন্ত শীর্ষে ছিলাম। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আর শেখ জামালের কাছে হার এবং ব্রাদার্সের সঙ্গে ড্র করে পিছিয়ে পড়েছি। শিরোপা দূরে থাক, আমাদের রানার্স-আপ হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। ঢাকা আবাহনী আর শেখ জামাল অনেক এগিয়ে আছে আমাদের চেয়ে।’
দলের ব্যর্থতার দায় নিজের ওপরেই নিচ্ছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ, ‘কোচ হিসেবে সব দায়-দায়িত্ব আমার। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমি ব্যর্থ। ১৭ রাউন্ড পর্যন্ত সবার ওপরে থেকেও পারলাম না, ব্যর্থ তো বটেই।’
টিটুর মতে, দলের ব্যর্থতার পেছনে আরও কারণ আছে, ‘স্থানীয় খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে দলের এমন দুরবস্থা হতো না। তাছাড়া আমাদের বিদেশি সংগ্রহ ভালো হয়নি। সানডে, সলোমন বা রাফায়েলের মতো খেলোয়াড় থাকলে আমরা আরও গোল পেতাম।’








