এসেছিলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হয়ে, বার্সেলোনায় হয়ে গেলেন ডিফেন্ডার। ‘ট্যাকল মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত সেই হাভিয়ের মাসচেরানোর শেষ হয়ে গেল বার্সেলোনা ক্যারিয়ার। ৮ বছর ন্যু ক্যাম্পে কাটিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা যোগ দিয়েছেন চীনের হেবেই ফরচুনে।
২০১০ সালে লিভারপুল ছেড়ে বার্সেলোনায় নাম লেখান তিনি। মূল একাদশের নিয়মিত মুখ হয়ে সাফল্যময় সব মৌসুম কাটিয়েছেন ন্যু ক্যাম্পে। পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার যেমন সাক্ষী তিনি, তেমনি দেখেছেন লুই এনরিকের অধীনে অন্যরকম বার্সেলোনাকে। কোচের বদল হলেও সাফল্যের ছোঁয়ায় উপভোগ্য সময় পার করেছেন মাসচেরানো। বিদায়বেলার সেই সব সুখস্মৃতিই সামনে এনেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
তার বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন বার্সেলোনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা। জাতীয় দলের হয়ে এখনও খেলা চালিয়ে যাওয়ায় লিওনেল মেসির সঙ্গে ড্রেসিং রুম ভাগাভাগির সুযোগ পাবেন এই আর্জেন্টাইন। তবে নিশ্চিতভাবে মিস করবেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সের্হিয়ো বুশকেৎস, জেরার্দ পিকে, জোর্দি আলবাদের।
৫.৫ মিলিয়ন ইউরোতে চাইনিজ সুপার লিগে নাম লেখানো মাসচেরানোর কোনও আক্ষেপ নেই, বরং চলে যাওয়াকেই সঠিক বলে মনে করছেন। শিরোপা আনন্দে ৮টি বছর কাটিয়ে দেওয়ার সুখস্মৃতি সঙ্গী করে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যাওয়ার আগে বার্সেলোনার হয়ে শেষ সংবাদ সম্মেলনে সাফল্যের রহস্যও উন্মোচন করে গেলেন ৩৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, ‘ড্রেসিং রুম (আমার কাটানো) এই বছরগুলোয় সাফল্যের রহস্য। এখানে (বার্সেলোনা) আসার আগে ভেবেছিলাম কঠিন একটা দলের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি। সেটাই স্বাভাবিক ছিল, কারণ তখন এই দলটিতে খেলতো গ্রেট সব খেলোয়াড়, যারা অনেক কিছু জিতেছিল।’
তবে যা ভেবে এসেছিলেন, তার উল্টো চিত্রই দেখলেন ন্যু ক্যাম্পে যোগ দিয়ে। মাসচেরানোর ভাষায় যা এমন, ‘এসে উল্টো চিত্রই দেখলাম। কাজ করা শুরু করলাম চমৎকার মনের মানুষদের সঙ্গে, সবার সঙ্গে সবার সুন্দর সম্পর্কই আমাদের এই সাফল্যের রহস্য।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘(কার্লেস) পুয়োল, জাভি (এর্নান্দেস) ও ভিক্তর (ভালদেস) শুরু করেছিল এই পথ। পরের সময়টাতে নেতৃত্ব বদল হলেও পথটা ছিল অভিন্ন।’
শুধু সাফল্যের জন্য নয়, বার্সেলোনায় ড্রেসিং রুমে অসাধারণ সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটাতে পারাটাও মাসচেরানোর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। নিজেকে সেজন্য ‘ভাগ্যবান’ মনে করেন। বিদায়বেলায় তাই কোনও আক্ষেপ নেই তার, ‘বিশ্বের সব সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েছি, যারা আমাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। আমি গর্বিত; ভাগ্যবানও। স্বপ্ন এখানেই থেমে যাচ্ছে, তবে যেটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি সময় থাকবে এটা আমার মধ্যে। তাই বিদায় বলতে ভালো লাগছে।’
রিভার প্লেট দিয়ে ফুটবলে পা রাখা মাসচেরানো ওয়েস্টহ্যাম দিয়ে শুরু করেন ইউরোপ মিশন। এক বছর সেখানে কাটিয়ে ২০০৭ সালে যোগ দেন লিভারপুলে। ইংলিশ এই ক্লাব ছেড়েই ২০১০ সালে তিনি নাম লেখান ন্যু ক্যাম্পে। ৮ বছরের ক্যারিয়ারে লা লিগায় খেলা ২০৩ ম্যাচে মাসচেরানোর গোল একটি।
তাতে থোরাই কেয়ার, রক্ষণাত্মক পজিশনে তিনি প্রতীক হয়ে থাকবেন বার্সেলোনার, ‘ট্যাকল মাস্টার’ মাসচেরানো হয়ে। মার্কা








