প্রিমিয়ার লিগে শুরুতে যেভাবে এগিয়েছিলেন, তাতে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত ছিল। প্রথম পর্বে ৬ গোল করে চমকই দেখিয়েছিলেন তৌহিদুল আলম সবুজ। যদিও শেষদিকে গোলের ধারা সচল রাখতে না পারায় ভাগ্যকে দোষ দিচ্ছেন এই স্ট্রাইকার।
৮ গোলে এসে থামে সবুজের গোলের চাকা। লিগ শেষে এটাই চট্টগ্রাম আবাহনী স্ট্রাইকারের পুঁজি। স্বাধীনতা কাপে গ্রুপ পর্বে একটি গোল করে এই স্ট্রাইকার এখন মালদ্বীপে। সেখানে সাইফ স্পোর্টিংয়ের হয়ে গোল করার অপেক্ষায়।
চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে ধারে এএফসি কাপের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে আত্মবিশ্বাসী সবুজ। মালদ্বীপ থেকে ‘বাংলা ট্রিবিউন’কে বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে অনেক আশা নিয়ে সাইফের হয়ে এএফসি কাপে খেলতে এসেছি। কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করব। আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করার ইচ্ছা তো আছেই। দল যেন ভালো করতে পারে, সেই চেষ্টা করে যাব।’
গত ১৯ জানুয়ারি ছেলে তারাজ আলম রাফান পৃথিবীর আলো দেখেছে। বাবা হয়ে রোমাঞ্চিত কক্সবাজারের এই স্ট্রাইকার। ছেলের পাশে থাকার জন্য এএফসি কাপে হোম ম্যাচে খেলতে পারেননি। অ্যাওয়ে ম্যাচে জায়গা পেয়ে গোলের অপেক্ষায় তিনি। আর সেটাই হতে পারে তার জন্য বড় উপহার।
প্রিমিয়ার লিগে দলের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে ২২ ম্যাচের ২০টিতে খেলেছেন সবুজ। শেষের দুই ম্যাচ পায়ের ব্যথার কারণে খেলা হয়নি। ২০ ম্যাচে ৮ গোলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সবুজ এভাবে, ‘লিগের খেলায় বারবারই ছেদ পড়েছে। তাই মনসংযোগ ধরে রাখা যায়নি। ব্যথার কারণে শেষ দুটি ম্যাচ খেলা হয়নি। আমি আমার মতো চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুটির বেশি গোল পাইনি। এখানে আর কী বলব।’
ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেকের মত, ৬ গোল করার পর সবুজের মধ্যে তা বাড়ানোর তাড়না কিছুটা কম ছিল। সেটা আত্মতুষ্টি থেকে হতে পারে। কিন্তু সবুজ তা মানতে নারাজ, ‘না, না। আমার মধ্যে সেটি কাজ করেনি। দল জিতবে, সেটাই কাম্য ছিল। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। তাই পারিনি। পুরো দলের তো একই অবস্থা। শেষের দিকে বেশি খারাপ অবস্থা। আমিও মনে করেছিলাম সর্বোচ্চ গোলদাতা হব। তা হতে পারলাম কই।’
তবে দলটির বিদায়ী কোচ সাইফুল বারী টিটু সবুজের কথাতে একমত নন। তার বক্তব্য, ‘হয়তো প্রথম পর্বে হাফডজন গোল হয়েছে। সেক্ষেত্রে হয়তো আত্মতুষ্টি থেকে সিরিয়াসনেস কম কাজ করেছে। লিগের দ্বিতীয় পর্বে সবুজ আগের মতোই গোলের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু দুটির বেশি গোল পায়নি। বিদেশিরা তো পুরোদমে পেশাদার। তাই তারা শেষ পর্যন্ত ভালো খেলে থাকে। এখানে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’
এ নিয়ে তৃতীয়বার লিগে ৮ গোল করলেন এই স্ট্রাইকার। চট্টগ্রাম আবাহনীতে আসার আগে মোহামেডানে এবং ফরাশগঞ্জের হয়ে লিগের অভিষেকেই। এবার তার চেয়ে অনেকটা পেছনে থেকে শেখ জামালের দুই বিদেশি নাইজেরিয়ান রাফায়েল ও গাম্বিয়ার সলোমন কিং ১৫ গোল করে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। সবুজ বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, ‘বিদেশিরা যে খুব উঁচুমানের, বিষয়টা তা নয়। আসলে ক্লাবগুলো ওদের ওপর নির্ভর করে। ওরা পাওয়ারের দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে। যে কারণে আমরা লড়াই করেও এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারিনি।’







