সৌরভ-শরৎ ফুটবলে তেমন নাম করতে পারেননি। পরিবারের ছোট ছেলে হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস ব্যতিক্রম। ক্যারিয়ারের শুরুতেই আলো ছড়িয়ে, জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি পড়ে দৃষ্টি কেড়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীদের। অথচ দিনাজপুর থেকে উঠে আসা হেমন্তকে গত দুই মৌসুম ধরে মাঠে খুঁজে পাওয়াই ভার। আগের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স এখন উধাও!
২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অভিষেকেই গোল করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন হেমন্ত। এরপর সেই সময়ের জাতীয় দলের সহকারী কোচ রেনে কোস্টার স্বদেশ নেদারল্যান্ডসের এফসি টোয়েন্টি ক্লাবে ট্রায়ালের সুযোগ করে দেন তাকে। নেপালের বিমল ঘাড়তি মাগার ও হেমন্ত একই সঙ্গে ট্রায়াল দিয়েছিলেন ডাচ ক্লাবে। দুজনে দুই সপ্তাহ অনুশীলনের সুযোগও পেয়েছিলেন।
টোটাল ফুটবলের ছোঁয়ায় দারুণ উন্নতি করে বিমল এখন নেপালের অন্যতম সেরা ফুটবলার, ভারতের আই-লিগে মোহনবাগানের মতো বিখ্যাত ক্লাবে খেলছেন। অথচ মাত্র ২৪ বছর বয়সেই হেমন্ত খুঁজে বেড়াচ্ছেন নিজেকে।
অনেক আশা নিয়ে ঢাকা আবাহনী থেকে হেমন্তকে এ মৌসুমে নিয়ে এসেছিল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কিন্তু বিকেএসপির সাবেক ছাত্র প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দলটির আশা পূরণে ব্যর্থ।
ক্যারিয়ারের উষালগ্নে সাফল্য পেয়েও তা ধরে রাখতে পারেননি, উল্টো ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে চলেছেন। বিষয়টি নিয়ে হেমন্ত ভীষণ চিন্তিত। বাংলা ট্রিবিউনকে এই মিডফিল্ডার বললেন, ‘আমি নিজেও বুঝতে পারছি যে ফর্ম বেশ খারাপ যাচ্ছে। আমার ফর্মে না থাকার বিভিন্ন কারণ আছে। ইনজুরি ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে গত দুই মৌসুম নিজের সেরাটা দিতে পারিনি। এ মৌসুমে সাইফের হয়ে ভালো খেলার চেষ্টা করেছিলাম। তবে অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকায় পারিনি।’
দুই সপ্তাহের অনুশীলন ক্যাম্পের জন্য বুধবার কাতারে গেছে জাতীয় দল। কিন্তু অসুস্থতার জন্য হেমন্ত যেতে পারেননি। যে কারণে তিনি হতাশ, ‘জ্বরের জন্য কাতার যেতে পারলাম না।’ নেপালের বিমলের এগিয়ে যাওয়ার বিপরীতে নিজের ব্যর্থতাও কষ্ট দেয় তাকে, ‘বিমল ভালো খেলছে, কিন্তু আমি ভালো খেলতে পারছি না। এটা চিন্তা করলেই কষ্ট লাগে।’
তবে অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে এ বছর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ভিনসেন্টের। নিজেকে নিয়ে তিনি আশাবাদী, ‘আমার এমন কিছু বয়স হয়নি যে আগের মতো খেলতে পারবো না। আমি শেষ হয়ে যাইনি। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, ২০১৮ সালে ফিরবোই। কম বয়সে অনেক কিছু বুঝতাম না, তাই অনেক ভুল করেছি। কিন্তু এখন আমি আত্মবিশ্বাসী। এ বছর জাতীয় দল বা ক্লাব যেখানেই খেলি না কেন, নিজেকে উজাড় করে দেবো।’








