অন্তত এক পয়েন্টের আশায় মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে গিয়েছিল আবাহনী লিমিটেড। স্বাগতিক নিউ রেডিয়েন্টের বিপক্ষে ড্র করতে পারলেই নিজেদের সফল দাবি করতে পারতো তারা। কিন্তু এক পয়েন্ট দূরের কথা, ৫-১ গোলের বিশাল হারের লজ্জায় পড়তে হয়েছে আকাশি-নীলদের। এমন বড় ব্যবধানে হারের ঘটনা নিকট অতীতে ঘটেনি। দলের কোচ সাইফুল বারী টিটুর ক্যারিয়ারেও এমন বড় হারের অভিজ্ঞতা প্রথম। এমন হারে তাই লজ্জিত আবাহনীর কোচ, দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
হারের বেদনায় নীল পুরো আবাহনী। এই ব্যর্থতার কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছে না তারা। মালে থেকে টিটু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘কী বলব, কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এভাবে হারব চিন্তাই করতে পারিনি। অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়ার কথা ভেবে মালেতে খেলেতে এসেছিলাম। কিন্তু এভাবে তারা আমাদের বিপক্ষে ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে চিন্তাই করতে পারিনি। আমি দলের এমন হারে লজ্জিত। দেশবাসী ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’
বুধবার প্রথমার্ধে নিউ রেডিয়েন্ট ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। ৪৬ মিনিটে জাপানের সেইয়া কোজিমা ১-১ করলে আবাহনীর পালে বাতাস লাগে। কিন্তু এরপর মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ ইমন-ফাহাদরা। আলি ফাসির ও আলী আশফাক মিলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে আবাহনীকে। এলিসন-বাদশাদের নিয়ে গড়া ডিফেন্স খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে।
ফাসির ও আশফাককে নিয়ে বিশেষ কৌশল ভেস্তে গেছে বাংলাদেশের। টিটু বলেছেন সেই কথা, ‘ম্যাচের আগে ভিডিওতে বারবার এই দুজনকে আলাদা করে মার্ক করতে বলেছিলাম। ওরা যে কোনও পজিশনে ভয়ঙ্কর হতে পারে। কিন্তু অফসাইড ট্র্যাক বলুন আর নিজেদের ব্যর্থতা, ওদেরকে রুখতে পারিনি। ফাসির তো হ্যাটট্রিক পেয়েছে। আশফাক এই বয়সে এসে তার নৈপুণ্য দেখিয়েছে। এভাবে পুরো দল আত্মসর্ম্পণ করবে কে ভেবেছিল। তবে প্রচণ্ড গরমের কারণে দ্বিতীয়ার্ধে পুরো দল কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, এটা হারের অন্যতম একটা কারণ।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটাই আবাহনীর বড় হার। এর আগে এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপে নেপাল পুলিশ ক্লাবের কাছে ৪-০ গোলে হারের রেকর্ড ছিল। কোচও এমন বড় ব্যবধানে আগে হারেনি। শেষ ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন টিটু, ‘আসলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো যে মানসিকতা লাগে, সেটা আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে কমই আছে। শুরুর দিকে থাকলেও সেটা আস্তে আস্তে কমে আসে। এখন তো ভারতের বেঙ্গালুরুর সঙ্গে শেষ ম্যাচে কী হবে তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা। সানডে, আলিসন, ফাহাদ কার্ডের কারণে খেলতে পারবে না। তাহলে বুঝে নিন ১৬ মে ঢাকাতে কী ফল হতে পারে!’
ফলাফল নিয়ে শঙ্কা থাকলেও লজ্জাজনক হারের ব্যথা সেরে তোলাই হবে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।








