বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপে লাওসের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্টের পর বিপলু আহমেদের গোলে বাংলাদেশের স্বস্তির জয়। তাই এক গোল করেই প্রশংসার সাগরে ভাসছেন তিনি। দলের প্রধান কোচ, সহকারী কোচ ও সতীর্থদের কাছে পাচ্ছেন বাহবা। আনন্দের আতিশায্যে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেননি। এখন স্পটলাইট তার ওপর। দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় হিসেবে কোচের আস্থা অর্জন করেছেন। অথচ এই বিপলু রাগে-ক্ষোভে ঢাকাতে ফুটবলের ট্রায়ালই দিতে চাননি! এমনকি সুযোগ ছিল লন্ডনেও চলে যাওয়ার।
২০১৩ সালে ঢাকায় মোহামেডানে স্পোর্টিং ক্লাবে উন্মুক্ত ট্রায়ালে এসেছিলেন বিপলু। বড় ভাই বাবলু আহমেদের হাত ধরে এসেছিলেন, কিন্তু ট্রায়ালে অংশ নিতে পারবেন কিনা সেই শঙ্কা ছিল। জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী ওয়াহেদ আহমেদ সুযোগটা করে দেন। কিন্তু ট্রায়ালের প্রথম দিনে অনেক অপেক্ষাও করেও নিজের কারিকুরি দেখানোর সুযোগ মেলেনি।
এক পর্যায়ে ২০ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়ে গোলও করলেন। তখনই দুই কোচ জসিমউদ্দিন জোসি ও সাইফুল বারী টিটুর চোখে পড়ে যান। পরের দুই দিন আর খেলারই সুযোগ পাননি। বিপলু মনে করেছিলেন হয়তো তাকে বাছাইয়ে রাখা হবে না। রাগে-ক্ষোভে সিলেটে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। বড় ভাই বাবুল আহমেদ বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে ট্রায়ালের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এক পর্যায়ে তো সবুজ সঙ্কেত মিলে যায়।
সেই দিনটার কথা মনে পড়ে গেল বিপলুর। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলার সময় ফিরে গেলেন সেই দিনে, ‘আমি সেই দিনটার কথা এখনও ভুলতে পারিনি। হয়তো আমার ফুটবলারই হওয়া হতো না। ঢাকার ট্রায়ালে পাইওনিয়ার লিগের খেলোয়াড়রা ছিল। আমার তো কোনও লিগে খেলার অভিজ্ঞতাই নেই। মনে হচ্ছিল টিকতে পারবো না। বাবলু ভাই বলার পর অপেক্ষায় রইলাম। তারপর তো সবকিছুই ইতিহাস।’
মোহামেডানের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে সেই বছরই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলেন। খিলগাঁও ফুটবল একাডেমির হয়ে তৃতীয় বিভাগ, ইস্ট অ্যান্ড ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ও যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া সংঘের হয়ে প্রথম বিভাগ খেলে পেশাদার লিগে মোহামেডানে অভিষেক। এবার যোগ দিচ্ছেন শেখ রাসেলে।
শুধু যে ঢাকার ফুটবলে ট্রায়াল, তা নয়। বিপলুর লন্ডনে চলে যাওয়ার সুযোগও হয়েছিল। সাত ভাইয়ের তিনজন থাকেন সেখানে। তারাই চেয়েছিল তাকে লন্ডনে নিয়ে যেতে, সেখানে খেলার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন তারা। কিন্তু বিপলু যাননি। কারণ তিনি হৃদয়ে ধারণ করে ছিলেন জাতীয় দলকে, ‘আমি ঘরোয়া ফুটবলে খেলব, জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করব এই ইচ্ছা ছিল বলে দেশেই থেকে গেছি। লন্ডনে যাইনি। আমার ভাইরা অনেক বলেছিল। কিন্তু ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলাম বলে দেশে থেকে গেছি। এখন জাতীয় দলে খেলতে পারছি। গোলও পেলাম। এই আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না।’
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বনকলাবাজারের সুবিদবাজারের বাসায় বাবা-মার সঙ্গে দেখাও করতে গেছেন বিপলু আহমেদ। সেখানে পরিবারের সবাই তো বটেই, পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়েছেন। বিপলু এই ভালোবাসা-সম্মান ধরে রাখতে চান, ‘জাতীয় দলে নিয়মিত খেলতে চাই। দেশের জন্য ভালো খেলে আরও উঁচুতে যেতে পারলে ভালো লাগবে। এটাই আমার এখন লক্ষ্য।’








