সময় পেলেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চলে যান অবকাশ যাপনে। গত মাসেই আন্তর্জাতিক ফুটবল বিরতিতে পরিবারের সঙ্গে লিওনেল মেসি বেড়িয়ে এসেছেন দুবাই থেকে। তাদের নিয়ে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর ছবি নিয়মিত পোস্টও করেন তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরিবারই মেসির কাছে শেষ কথা, সেটা এমনকি ফুটবলকেও ছাড়িয়ে!
মাঠের সবুজ গালিচায় মেসি নামটা প্রতিপক্ষ শিবিরে ফেলে ভয়ের ছাপ। প্রায় প্রতি ম্যাচেই তিনি মেতে ওঠেন ধ্বংসের খেলায়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সেই মেসিই চরম যত্নশীল এক স্বামী ও বাবা। প্রথম সন্তান থিয়াগো জন্ম নেওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন তারকা তার অনুভূতি ভাগাভাগি করেছিলেন এভাবে, ‘আমি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।’ সন্তানরা জীবনের পথে নতুন করে তাকে চলতে শিখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
বরাবরই স্ত্রী-সন্তানদের প্রাধান্য দেওয়া মেসি এবার পরিবারকে রাখলেন সবকিছুর ওপরে। যে ফুটবল তাকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে তুলেছে, যে খেলাটি মিশে তার রক্তকণিকায়, সেই ফুটবলকেও পেছনে রাখলেন পরিবারের সামনে। তিন ছেলের বাবা মেসি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমার সন্তান জন্ম নেওয়ার পর সবসময়ই সবার আগে প্রাধান্য পেয়েছে আমার পরিবার। ওরা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই আমি ফুটবল ভালোবাসি, আর এটাতে আমি বেঁচেও আছি, কিন্তু পরিবার আমার কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে।’
বড় ছেলে থিয়াগোর সঙ্গে ফুটবল নিয়ে আলোচনা হয় বলেও জানিয়েছেন মেসি। এমনকি খারাপ খেললে বাবার সমালোচনাও করে ৬ বছর বয়সী থিয়াগো। মেসির কথায়, ‘থিয়াগোর অনেক চাহিদা থাকে আমার কাছে। ওর কাছ থেকে বেশ কিছু সমালোচনাও শুনতে হয়েছে আমার। ম্যাচ শেষে আমরা সবময়ই কিছু না কিছু আলোচনার চেষ্টা করি।’
এবারের ব্যালন ডি’অরের সেরা তিনেও থাকা হয়নি মেসির। পঞ্চম হয়েছেন ফুটবলারদের ব্যক্তিগত অর্জনের সবচেয়ে মর্যাদার পুরস্কারটিতে। মেসি অবশ্য আগে থেকেই জানতেন, এবার পুরস্কারটি জিততে পারবেন না তিনি। ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গে বার্সেলোনা অধিনায়কের বক্তব্য, ‘এটাকে (ব্যালন ডি’অর) খুব একটা গুরুত্ব দেই না, যদিও এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার। এই মৌসুমে আমি জানতাম আমার জেতার সুযোগ নেই। নামগুলো শোনার পর বুঝতে পেরেছিলাম আমি হতে পারব না। তাই মোটেও অবাক হইনি, কারণ কোনও কিছুই প্রত্যাশা ছিল না আমার।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার দারুণ সময় কাটাচ্ছে বার্সেলোনা। মেসিও আছেন ফর্মে। ২০১৫ সালে সবশেষ ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার শিরোপা হাতে তোলা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড এবার জিততে চান আবার। সেই স্বপ্নের কথাই শুনিয়েছেন তিনি, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ সবসময়ই বিশেষ কিছু। আমরা আবারও জিততে চাই শিরোপা, আর এটাই আমাদের স্বপ্ন।’
যদিও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ পাচ্ছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী, ‘পিএসজি খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানি, কারণ আমি ফ্রেঞ্চ লিগ দেখি। জুভেন্টাস শক্তিশালী দল, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে সেটা আরও বেড়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি চমকপ্রদ ফুটবল খেলে। বায়ার্ন মিউনিখ আবার জেগে উঠেছে। এখান থেকে একদলকে বেছে নেওয়া কঠিন, কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগ চমৎকার এক প্রতিযোগিতা।’ বার্সেলোনা ওয়েবসাইট








