চেষ্টার কমতি রাখেনি লিভারপুল। সফল হতেও যাচ্ছিল তারা। কিন্তু ফ্রি কিক থেকে লিওনেল মেসি যে গোলটি করলেন, তা প্রতিহত করার ক্ষমতা হয়তো বিশ্বের কোনও ডিফেন্ডার কিংবা গোলরক্ষকের নেই। আর্জেন্টাইনের করা দ্বিতীয় গোলটি লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ পর্যন্ত মেনে নিচ্ছেন ‘ঠেকানো অসম্ভব’।
মেসিকে আটকাবেন কিভাবে- চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে লিভারপুল কোচ ক্লপের কাছে ছিল প্রশ্নটি। উত্তরে বলেছিলেন তিনি, ‘দেখা যাক’। লম্বা পাস ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে জায়গা বদল করা কৌশলে বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচে পরিণত হয়েছেন ক্লপ। লিভারপুলের দুর্দান্ত এগিয়ে চলা যার প্রমাণ। তবে লড়াইটা যখন বার্সেলোনা ও মেসির বিপক্ষে তখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাতেই পড়েছিলেন তিনি।
যদিও এই জার্মান দারুণ ট্যাকটিকসে ‘শান্ত’ রাখতে পেরেছিলেন মেসিকে। কড়া মার্কিং ও শারীরিক শক্তির প্রদর্শনীতে তাকে বলের জোগান দেওয়া ও স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে দেননি লিভারপুল খেলোয়াড়রা। কিন্তু ব্যাপারটি যখন ডেড বলের, তখন কোনও ট্যাকটিকসই কাজে আসে না মেসির সামনে। লিভারপুল কোচ ক্লপও এখানে ব্যর্থ। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে নেওয়া বাঁক খাওয়া বুলেট গতির শটে বার্সেলোনা অধিনায়ক ঠিকই পেয়ে যান গোল।
আর এই গোলটাতেই ক্লপ আরও পরিষ্কারভাবে বুঝে যান, ‘মেসিকে থামানো অসম্ভব’। ওটা ছিল ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকার দ্বিতীয় গোল। প্রথমটি বার থেকে ফিরে আসা বলে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন বলে মেসির তেমন কৃতিত্ব থাকে না তাতে। তবে দ্বিতীয় গোলটি বিস্ময়ের রেণু ছড়ায় প্রতিপক্ষ কোচের চোখেও।
ন্যু ক্যাম্পে ৩-০ গোলে হারের পর মেসিকে নিয়ে ক্লপের বক্তব্য, ‘মেসি? ও অপ্রতিরোধ্য, ওই রকম ফ্রি কিক আকটানো একেবারেই অসম্ভব।’ মেসির প্রতি তার মুগ্ধতাও ঝরে একই সঙ্গে, ‘(মেসির প্রথম গোলে ব্যবধান) ২-০ হওয়ার সময় সম্ভবত ওটা তার গ্রেট গোল ছিল না। যদিও গোলটিতে ঠিক জায়গায় থেকে লক্ষ্যভেদ করার মধ্যে ফুটে ওঠে তার বিচক্ষণতা। আমি তার বড় ভক্ত, যদিও আমরা খুব ভালোমতোই তাকে সামলাতে পেরেছিলাম।’
ন্যু ক্যাম্পে বড় ব্যবধানে হারায় ফাইনালের ওঠার স্বপ্ন অনেকটাই ফ্যাকাশে হয়ে গেছে লিভারপুলের। তবে দলের প্রচেষ্টায় ভীষণ সন্তুষ্ট ক্লপের মতে, ‘এই ম্যাচটি শুধু এবারের মৌসুমের নয়, গত মৌসুম মিলিয়ে আমাদের সেরা অ্যাওয়ে ম্যাচ।’ মার্কা








