যে দলের ক্যাবিনেটে অসংখ্য ট্রফি, যারা অজস্র অর্জনে সমৃদ্ধ সেই দল আজ নেতিবাচক কারণে খবরের শিরোনামে! মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতার হয়েছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। ক্যাসিনো-কাণ্ডে মোহামেডানের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির সাবেক খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লোকমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তারা। বাদল রায়, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, আব্দুল গাফফার, ইলিয়াস হোসেন, শফিকুল ইসলাম মানিক, সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, ছাইদ হাসান কানন, ফজলুর রহমান বাবুল, মোস্তাকুর রহমান, সাজেদ আদেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন এই সংবাদ সম্মেলনে।
আশির দশকের তারকা ফুটবলার বাদল রায় বলেছেন, ‘আজ আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মোহামেডানের এমন অধঃপতন কল্পনাও করা যায় না। সারা দেশের কোটি কোটি মোহামেডান ভক্ত কাঁদছে। মোহামেডানকে ধ্বংস করার মূল হোতা লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। অবিলম্বে ক্লাব থেকে তার বহিষ্কার চাই। শুধু ক্লাব নয়, বিসিবির পরিচালক পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করতে হবে।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অস্ট্রেলিয়ার এএনজেড ও কমনওয়েলথ ব্যাংকে ৪১ কোটি টাকা গচ্ছিত রাখার কথা স্বীকার করেছেন লোকমান। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের দাবি, ‘এই টাকা মোহামেডান ক্লাবের। আমরা এটা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। একজন ব্যক্তি ক্লাবকে ব্যবহার করে শুধু নিজের উন্নতি করেছে, ক্লাবের উন্নতির দিকে তাকায়নি। তার জন্য সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠকরা ক্লাবে যেতে পারেনি। সে ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়েছে। তাকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’
১ অক্টোবর শুরু হবে ফুটবলের দলবদল। এবার আর দায়সারা নয়, ভালো দল গড়ার প্রত্যয় বাদল রায়ের কণ্ঠে, ‘আমরা ক্লাবের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। লিগে ৭/৮ নম্বর হওয়ার জন্য মোহামেডান কেন দল গড়বে? আমরা আবার চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। সমর্থকদের আশ্বাস দিচ্ছি, মোহামেডান এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াবে।’
ক্লাবের সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ‘২০১৩ সালে অনিয়মের কারণে মোহামেডান ক্লাবের নির্বাচন বয়কট করেছিলাম আমরা। তখন থেকেই মোহামেডানে একনায়কতন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে লোকমান। এরপর আর নির্বাচন কিংবা এজিএম হয়নি। ২০১৫ সাল থেকে লোকমানের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদও অবৈধ।’








