প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত হার দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংসকে। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ জিততেই হতো প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে ভারতের চেন্নাই এফসিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আপাতত স্বস্তিতে লাল জার্সিধারীরা। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে দুই দলের চারজন দেখেছেন লাল কার্ড।
চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে দিনের অন্য ম্যাচে মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু এফসি গোলশূন্য ড্র করেছে ভারতের গোকুলাম কেরালা এফসির সঙ্গে। ‘বি’ গ্রুপে দুটি করে ম্যাচ শেষে তেরেঙ্গানু ও গোকুলামের পয়েন্ট চার। বসুন্ধরার তিন পয়েন্ট। টানা দ্বিতীয় হারে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে চেন্নাইয়ের।
চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। বাঁ প্রান্ত থেকে গোলমুখে ক্রস করেছিলেন নুরুল নাঈম ফয়সাল। কিরগিজ মিডফিল্ডার বখতিয়ার দুইশবেকভের ব্যাক হেড চলে আসে জালাল কদুহর কাছে। বাঁ পায়ের চমৎকার ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে দেন লেবাননের এই স্ট্রাইকার।
২৪ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম। চার্লস আনন্দরাজকে ইমন বাবু ফাউল করলে চেন্নাইয়ের পক্ষে ফ্রি-কিক দেন রেফারি। কিন্তু ইমনকে কার্ড না দেখানোয় রেফারির সঙ্গে তর্ক করেন চেন্নাইয়ের কাতসুমি ইউসা। এক পর্যায়ে মাঠের বাইরে গিয়ে চতুর্থ রেফারির জন্য নির্দিষ্ট টেবিল লাথি দিয়ে ভেঙে ফেলেন এই জাপানি মিডফিল্ডার। এরপর মাঠে ঢুকে রেফারির দিকেও তেড়ে যান তিনি। ইউসাকে রেফারি লালকার্ড দেখালে প্রায় ১২ মিনিট পর শুরু হয় খেলা।
১০ জন নিয়েই অবশ্য সমতা নিয়ে আসে চেন্নাই। ৪৩ মিনিটে আই-লিগ চ্যাম্পিয়নদের পেদ্রো মানজির প্লেসিং শট জড়িয়ে যায় জালে।
বিরতির ঠিক আগে আবার গণ্ডগোল। একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে বাদানুবাদে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেছেন দুই দলের কোচ বসুন্ধরার অস্কার ব্রুজন এবং চেন্নাইয়ের আকবর বিন নওয়াস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ঢেউ তুলে ৫৯ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড দানিয়েল কোলিনদ্রেসের ক্রস থেকে দুইশবেকভের হেড চলে যায় জালে।
৬৯ মিনিটে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার রবার্তো এসলাভা সুয়ারেস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় চেন্নাই। তবে প্রতিপক্ষের চেয়ে দুজন কম নিয়েই ৭১ মিনিটে সমতা নিয়ে আসে ভারতীয় দলটি। সাইড ভলিতে গোলটি করেন মাশুর শেরিফ।
তবে বসুন্ধরা হাল ছাড়েনি। ৮৮ মিনিটে জয়সূচক গোলের দেখা পায় লিগ চ্যাম্পিয়নরা। কদুহর দ্বিতীয় গোলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের।








