কখন ফিফার অনুমোদন আসে, সেই অপেক্ষায় ছিলেন জয়া চাকমা। অবশেষে তা পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ফিফা রেফারি হয়েছেন ‘পাহাড়ি কন্যা’। আগামী এক বছর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মেয়েদের মূল স্তরের ম্যাচ পরিচালনা করতে কোনও বাধাই আর রইলো না তার।
গত ২৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিফা রেফারি হওয়ার জন্য ফিটনেস পরীক্ষা দিয়েছিলেন জয়া চাকমা। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট ফিফায় পাঠানোর পর গত ৫ ডিসেম্বর বাফুফেকে মেইলে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হয়।জয়া ফিফার অনুমোদন পেলেও একই যাত্রায় সহকারী রেফারি সালমা ইসলাম বয়সের কারণে অনুমোদন পাননি। ফিফা রেফারি হতে হলে ন্যূনতম বয়স হতে হয় ২৩ বছর, তার বয়স ২৩-এর কম। এছাড়া পুরুষদের বিভাগে এবার বাংলাদেশ থেকে ৫ জন ফিফা রেফারি ও ৭ জন সহকারী রেফারি হয়েছেন।
বাফুফের রেফারি কো-অর্ডিনেটর ও হেড অব কম্পিটিশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম শহীদুল ইসলাম বলেছেন, ‘জয়া চাকমার বিষয়টি ফিফা অনুমোদন করেছে। সে বাংলাদেশের প্রথম ফিফা নারী রেফারি। কিছুদিনের মধ্যে ফিফা থেকে ব্যাচ,জার্সিসহ অন্য সরঞ্জামাদি এসে পড়বে। তবে সালমা বয়সসীমার এবার হতে পারেননি। ভবিষ্যতে তার সুযোগ আছে।’
২০২০ সালের জন্য বাংলাদেশের প্রথম নারী রেফারি হতে পেরে জয়া চাকমা খুব খুশি, বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘এই খবরটির অপেক্ষায় ছিলাম। ফিফা থেকে অনুমোদনের খবর পেয়ে আমার অনেক ভালো লাগছে। এই অনুভুতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’
সাবেক এই ফুটবলার আগের চেয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী, ‘এখন নিজের কাছে অন্যরকম ভালো লাগছে। আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। আমি এতোদিন ধরে যে কষ্ট করছিলাম সেটির স্বীকৃতি মিলেছে।’
দেশের প্রথম ফিফা রেফারি হয়ে নিজের দায়িত্ব সূচারুভাবে করে যেতে চান জয়া, ‘এখন দায়িত্ব বেড়ে গেছে। আগামী একবছর নিজেকে ফিট রাখতে হবে। ফিফা থেকে যে দায়িত্বই পাই না কেন, সেটি ঠিকমতো পালন করতে চাই।’
আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে জয়াকে নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে ২০২১ সালের জন্য। জয়া তাকাচ্ছেন আরও সামনে, ‘আমি চাই এই অর্জন ধরে রাখতে। যেন আমার দেখাদেখি অন্য মেয়েরাও উঠে আসে। এতে করে বাংলাদেশের ফুটবলও এগিয়ে যাবে মনে করি।’
খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ কাঁপিয়ে ২০১০ সালে রেফারিং জগতকে আপন করে নিয়েছিলেন জয়া। লেবেল ৩, ২ ও ১ কোর্স করে জাতীয় রেফারি হয়েছেন আগেই। এবার হলেন ফিফা রেফারি। এশিয়ায় চারজন নারী ফিফা রেফারি আছেন। ভারতের দুজন এবং নেপাল ও ভুটানের একজন করে। জয়া পঞ্চম হিসেবে তালিকায় নিজের নাম তুলেছেন। ফিফা রেফারির ব্যাজ হাতে পেলে এএফসির এলিট প্যানেলের জন্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে চান জয়া।
রাঙামাটির মেয়ে জয়া টানা চার বছর বয়সভিত্তিক ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলেও খেলেছেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিজেএমসির হয়ে ঘরোয়া ফুটবলে খেলেছেন। এই সময় রেফারিংয়ের পাশাপাশি নাম লেখান কোচিংয়েও। এএফসির বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা ছাড়াও ঘরোয়া ফুটবলে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে তার। কোচিং কোর্সও করেছেন। এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স করে এখন বিকেএসপির মেয়েদের কোচ জয়া। সেখানেও সাফল্য পেয়েছেন। তার কোচিংয়েই গত নভেম্বরে ভারতে সুব্রত মুখার্জি আন্তর্জাতিক ফুটবলে শিরোপা জিতেছে বিকেএসপির মেয়েরা।








