মাঠের ফুটবলের ডিয়েগো ম্যারাডোনা এক বিস্ময়। অনেকের বিচারে তিনি সর্বকালের সেরা। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে এই ম্যারাডোনাই বিতর্কের অনিঃশেষ ভাণ্ডার! ঠোঁটকাটা স্বভাবের আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ প্রায়ই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে শিরোনামে আসেন। এবারও এলেন, তবে সেটা অতীতের ‘পাপ’ স্বীকার করে। কোকেনের নেশায় ডুবে তিন দিন বাড়িতে না ফেরার অজুহাতে বলেছিলেন, তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল এলিয়েন (ভিনগ্রহের প্রাণী)!
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা স্বীকার করেছেন পরিবারের কাছে মিথ্যা বলেছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের কোকেন আসক্তির কথা কার না জানা! ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ডোপ পাপে তার খেলতে না পারার যন্ত্রণা এখনও পোড়ায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। নেশার রাজ্যে এতটাই ডুবে থাকতেন যে, দুই-তিন দিন জ্ঞানই থাকতো না তার। সেরকমই এক মুহূর্তে এলিয়েনের গল্প সাজিয়েছিলেন ম্যারাডোনা।
মুখের ওপর কারও সমালোচনা করতে অন্তত ম্যারাডোনার বাধে না। নিজের ব্যাপারেও খোলামেলা আলোচনা করতে পছন্দ তার। এবারও অবলীলায় বলেছেন অতীত জীবনের কথা। টিওয়াইসি স্পোর্টসে সেই আলোচনা করতে বসেই ম্যারাডোনার স্বীকারোক্তি, ‘একসময় আমি প্রচুর মাত্রায় কোকেন নিতাম। যখন কোকেন নিতাম, মনে হতো আমি জীবন্ত লাশ হয়ে গিয়েছি। আমি আমার সমাজ ও পরিবার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম।’
একবার অতিমাত্রায় সেবন করায় তিন দিন বাড়ির বাইরে ছিলেন নাপোলিতে ইতিহাস লেখা এই কিংবদন্তি, ‘একবার এমন হয়েছিল- খুব বেশি মাত্রায় সেবন করায় তিন দিন আমি বাড়ি থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিলাম।’ কোথায় গিয়েছিলেন, পরিবারের সদস্যরা জিজ্ঞেস করতেই অদ্ভুত এক অজুহাত দাঁড় করান তিনি। আর্জেন্টাইন টেলিভিশনে ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি এভাবে, “বাড়ি ফিরে আমি তাদের জানাই, আমাকে এলিয়েন তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, ‘তারা আমাকে অপহরণ করেছিল, তবে এই বিষয়ে আমি তোমাদের কিছু বলতে পারব না।”
উচ্ছৃঙ্খল জীবনের আরও অনেক তথ্যও সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতানো জীবন্ত কিংবদন্তি। যার মধ্যে রয়েছে, মাত্র ১৩ বছর বয়সেই যৌন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার মতো তথ্যও। কিছুদিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। সাবেক বান্ধবীর কাছ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার ধার নিয়ে শোধ না করায় বুয়েনস এইরেস বিমানবন্দরে আটক হয়ে আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছিল তাকে।
বন্দুক হাতে ভক্তকে তাড়া করা, রাশিয়া বিশ্বকাপে মিডল ফিঙ্গার দেখানো কিংবা নতুন এলিয়েন-কাহিনি— ম্যারাডোনার জীবন সত্যিই বিচিত্র!








