বিবর্ণ মোহামেডান একটু একটু করে আলো ছড়াতে শুরু করেছে। টিভিএস ফেডারেশন কাপ ফুটবলের শুরু থেকেই নতুন রূপে আবির্ভাব। মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাদের। ২০১৫ সালের পর আবারও সেমিফাইনালে উঠেছে তারা।এখন ফাইনালে ওঠার মিশন। প্রথম সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার ম্যাচে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
২০০৯ সালে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল মোহামেডান। এরপর থেকে কখনও ফেডারেশন কাপের ফাইনাল খেলা হয়নি সাদা-কালোদের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর বড় সুযোগ দশবারের চ্যাম্পিয়নদের সামনে।
প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জও ইতিহাস গড়তে চাইছে। ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে প্রথম কোনও ফাইনালে ওঠার হাতছানি তাদের সামনে।
সেমিফাইনালে মোহামেডান ও রহমতগঞ্জের জায়গা করে নেওয়াটা ছিল অনেকটাই চমক। সাম্প্রতি ক্যাসিনো-কান্ডে জড়িয়ে মোহামেডানের ঐতিহ্যে লাগে আঘাত। এই মৌসুমে দল গঠনই পড়ে গিয়েছিল অনিশ্চয়তায়। ক্লাবের চরম দুঃসময়ে হাল ধরেন কয়েকজন সাবেক ফুটবলার। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাঝারিমানের তারুণ্যনির্ভর দল গড়তে পেরেছে মোহামেডান।
সেই দলটি নিয়িই সাদা-কালোরা মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আসাটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় হলেও নকআউট পর্বে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে দেওয়াটা ‘ফ্লুক’ নয়। অন্যদিকে রহমতগঞ্জের সেমিতে আসাটা আরও বড় চমক। গ্রুপে তারা ড্র করেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব এবং শেখ জামালের সঙ্গে। আর কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হারিয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে।
দুই দলই ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে।মোহামেডানের অস্ট্রেলিয়ার কোচ শন লেন বলেছেন, ‘আমাদের দলটি ভালো অবস্থায় আছে। খেলোয়াড়েরা উজ্জীবিত। আগের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে ফাইনালে খেলা সম্ভব।’
তবে রহমতগঞ্জকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মানছেন তিনি, ‘ওরা ভালো খেলছে। আমি মনে করি, এই ম্যাচে তাদের সম্ভাবনা কম নয়। কঠিন ম্যাচ হবে। তাই ফাইনাল খেলতে হলে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে। ছেলেরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে তাহলে জয় সম্ভব।’
মোহামেডানের মালিয়ান স্ট্রাইকার সোলেমান দিয়াবাতেকে আটকানো কঠিন হতে পারে। প্রেসিং ফুটবলে আক্রমণভাগ যদি সফল হয় তাহলে তারা জিততেই পারে।
রহমতগঞ্জ কোচ গোলাম জিলানি প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন, ‘মোহামেডান খুব ভাল ফর্মে আছে। তারা প্রেসিং ফুটবল খেলছে। তবে আমাদের তো এই ম্যাচে হারানোর কিছু নেই। যদি ছেলেরা যেরকম খেলে আসছে তা যদি আগামীকালের ম্যাচে খেলতে পারে তাহলে আমাদের সুযোগ থাকবে। আর আমাদের তো হারানোর কিছু নেই।’








