আবাহনী নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এএফসি কাপে সাফল্য পাচ্ছে। আজ হয়তো মোনেম মুন্না বেঁচে থাকলে খুশিই হতেন। কেননা আবাহনী আর মুন্না ছিল অভিন্ন নাম। আবাহনীই ছিল বাংলাদেশের এই ক্ষণজন্মা ফুটবলারের সর্বশেষ ঠিকানা। বাংলাদেশের ফুটবলে সর্বশেষ এই মহাতারকার আজ ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৫ এই দিনটিতেই চিরবিদায় নেন তিনি। ভুগছিলেন কিডনির জটিলতায়।
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারের মৃত্যুর দিনটি পালিত হচ্ছে অনেকটাই নীরবে। পরিবারের পক্ষ থেকে হয়েছে মিলাদ মাহফিল।
১৯৬৮ সালের ৯ জুন নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জন্মেছিলেন মোনেম মুন্না। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে পাইওনিয়ার ফুটবল লিগ দিয়ে যাত্রা শুরু হয় ফুটবলে। মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ১৯৮৬ সালে ব্রাদার্সে এক মৌসুম খেলেই আবাহনীতে যোগ দেন। সেখানেই একে একে অনেক মৌসুম পার করে দেন। ক্যারিয়ারও শেষ করেছেন আকাশি-হলুদ জার্সি গায়েই। আবাহনীকে পাঁচবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও তিনটি ফেডারেশন কাপ জিতিয়েছেন।
১৯৯১ সালে দলবদলে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকার পারিশ্রমিক পেয়েও আবাহনী ছাড়েননি। বরং ২০ লাখ টাকায় থেকে যান প্রিয় দল আবাহনীতে।
শুধু কি আবাহনীর হয়ে সাফল্য পেয়েছেন! জাতীয় দলেও দাপটের সঙ্গে খেলেছেন ১১ বছর। ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলেও অধিনায়কত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ প্রথম শিরোপা জেতে মুন্নার হাত ধরে। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। জার্মান কোচ অটো ফিস্টার ছিলেন ওই দলের কোচ। ফিস্টার তো বলেই দিয়েছিলেন, ‘মুন্না ভুলবশত বাংলাদেশ জন্মগ্রহণ করেছে।’
দেশেই শুধু নয়, দেশের বাইরেও সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। ভারতের ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দুই মৌসুম মাতিয়েছেন কলকাতার ফুটবল।
খেলা ছাড়ার পর আবাহনীর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন মুন্না। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর বেশ কিছুদিন ভালো ছিলেন । কিন্তু শেষ পর্য়ন্ত হাসপাতালের বিছানাতেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। রেখে যান স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে।
মৃত্যুর ১৫ বছর পরও মোনেম মুন্নার অবদান অনেকেই স্মরণ করেন। তিনি যে ফুটবলপ্রিয় মানুষের কাছে ছিলেন প্রিয়তম এক মুখ।








