গত লিগে চার গোলে হারের দগদগে ঘা নিয়ে মোহামেডানের মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী। আজ কি আগের ফলের পুনরাবৃত্তি হবে নাকি প্রতিশোধ নেবে আবাহনী? এমন প্রশ্ন ঘুরছিল বাতাসে। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্বের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কোনও সুযোগই দিলো না মারিও লেমোসের দল। চার গোলের হারের লজ্জা দিলো মোহামেডানকে! এমন জয়ের পর আকাশি-হলুদ জার্সিধারিরা বেজায় খুশি। অন্তত মর্যাদার ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে তো দেওয়া গেছে।
আবাহনীর এই মৌসুমের অধিনায়ক স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন। বুধবার দলের বড় জয়ে তার ভূমিকাও কম নয়। চার গোলের একটি এসেছে তার হেড থেকে। কোনও অধিনায়কের অধিনায়কত্বে আবাহনী চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারিয়েছে-ক্যারিয়ারে এমন দিন খুব বেশি আসে না। জীবন তাই দারুণ আনন্দিত, ‘আমার অধিনায়কত্বে মোহামেডানকে চার গোলে হারিয়েছি। এই আনন্দ বলে বোঝাতে পারবো না। আমার ক্যারিয়ারে অন্যতম উজ্জ্বল দিন।’
ম্যাচের দিন সকালে আবাহনীর খেলোয়াড়েরা সবাই পণ করেছিলেন, যেকোরেই হোক আজ মোহামেডানকে হারাতে হবে। জীবন মনে করছেন দল হিসেবে খেলতে পারাটাই এই বড় জয়ের অন্যতম কারণ, ‘আজ আমাদের প্রতিটি বিভাগ ভালো খেলেছে। কঠোর পরিশ্রম করেছে। তার ফলই আমরা ম্যাচ শেষে পেয়েছি।’
তবে চার গোলে ম্যাচ জিতবে দল-এমন প্রত্যাশা আবাহনী অধিনায়কের ছিল না, ‘আমরা ম্যাচ জিতবো, আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু চার গোলে জিতবো তা ভাবিনি। আসলে সবার পরিশ্রমের কারণেই এমন ফল হয়েছে।’
গত লিগে চার গোলে হারের পর আবাহনীর খেলোয়াড়,কোচ ও কর্মকর্তারা ছিলেন বিমর্ষ। জীবন বলেছেন, ‘সেই ম্যাচের পর আমাদের সবার মন খারাপ ছিল। ম্যানেজার রুপু দা তো বাসা থে্কেই দুইদিন বের হননি। কোচ লেমোস তো তিনদিন ঠিকমতো কথাই বলেননি। সেই দিনটি ফিরে আসুক তা আমরা আর চাইনি। যে কারণে আজ ম্যাচ জিতেই মাঠ ছেড়েছি। এখন লিগের পরের ম্যাচগুলো জিতে শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে চাই।’








