বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা হয়ে থাকে। বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের দিকে সবার অভিযোগের তীর। আগামী ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক ফুটবল তারকা। তবে আরেক সাবেক তারকা ফুটবলার বাদল রায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আর কেউ নির্বাচন না করলে লড়বেন তিনি। বাদল রায়সহ সাবেক খেলোয়াড়দের অনেকেই বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পাইওনিয়ার ফুটবল লিগের ফাইনাল দেখতে এসে বাফুফে সভাপতি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগ খণ্ডন করেছেন।
সাবেক ফুটবলাররা একদিন আগে সালাউদ্দিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সেটা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যারা যারা ওখানে ছিলেন, শেষ ২০ বছরে তাদের কর্মকাণ্ড কী টক-শো ছাড়া। এই কাজটিই তারা করছে। আমাকে একটু বলে দেন ওমুক এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’
সালাউদ্দিন আরও যোগ করেন, ‘মিথ্যা কথা বলা একটা অভ্যাস। ওখানে কারা ছিল, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কী। ফুটবল তো ৫ হাজার খেলোয়াড় খেলছে। শেষ ১০ বছরে তারা কী করেছে? আমাকে একটি উদাহরণ দেখান, টক-শো কিংবা বসে বসে সহজে অনেক কথা বলে দেওয়া যায়।’
১২ বছর আগের ফুটবলীয় কার্যক্রম তুলে ধরে বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘১০ বছর আগে ফিরে যান। এখন যা হচ্ছে তার এক-তৃতীয়াংশ হয়েছে কিনা, আপনারা রিসার্চ করে দেখতে পারেন। লিগ, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, পাইওনিয়ারসহ মেয়েদের খেলা সবই হচ্ছে। আমার তো একটাই প্রশ্ন। যারা কথাগুলো বলছে, তাদের সর্বশেষ ১০ বছরে টক-শো ছাড়া আর কী পারফরম্যান্স আছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা প্রসঙ্গে সালাউদ্দিনের ব্যাখ্যা, ‘সোশাল মিডিয়াতে যেখানে সমালোচনা হচ্ছে আপনি গুনে দেখবেন, সেইম গ্রুপ। ফুটবলকে শেষ করতে এটা সংঘবদ্ধ প্রচারণা। দেখে তো আসছি কে কী করছে। আমি কিন্তু মাঠ থেকে এসেছি। আজকে আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন বাচ্চাদের খেলা দেখছেন, যা আমি আয়োজন করেছি। আবাহনী এএফসি কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছে। কাতারকে হারিয়ে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছে। এটা তো কম সাফল্য না।’ চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হলে কী করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিনের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘যেসব প্রকল্প আছে, সেগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রাখবো। পৃথিবীতে কেউ ম্যাজিশিয়ান নয়। কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’
বর্তমানে বাংলাদেশের ফিফা র্যাঙ্কিং ১৮৭। এটি নিয়ে সালাউদ্দিনের দৃষ্টিভঙ্গিটা ভিন্ন, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। কিন্তু র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে বেলজিয়াম। র্যাঙ্কিং অনেক সময় অন্য কথা বলে। আমার কাছে টাকা থাকলে র্যাঙ্কিং আমারও হবে।’
জাতীয় দলের পারফরম্যান্স ও সাফে টানা চারবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘এটা জাতীয় দলের ব্যর্থতা। কিছু ম্যাচ ভালো খেলেছি। কিছু ম্যাচ বাজেভাবে হেরেছি। আমি সভাপতি হিসেবে খেলা আয়োজন করতে পারি। খেলে তো দিতে পারি না। যখন আমি এসেছি, তখন ৩ লাখ টাকার খেলোয়াড় ছিল। আজ ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পাচ্ছে খেলোয়াড়েরা। টাকা তো আমি নিই না। তারা নিচ্ছে। আপনাকে ভালো খেলতেও হবে।’
শুধু তার একার নয়, সবারই জবাবদিহিতা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন বাফুফে সভাপতি, ‘বাংলাদেশের ফুটবল শুধু সালাউদ্দিন বা অন্য কারও নয়, সবাই এখানে সম্পৃক্ত। আপনারা শুধু আমার পারফরম্যান্স দেখবেন, আপনার কী পারফরম্যান্স। আপনারা কিন্তু খেলোয়াড় কিংবা কোচকে ধরছেন না।’
‘২০১৬ সালে ভুটান থেকে ফেরার পর মালদ্বীপের কোচ টম সেইন্টফিট বলেছিল, তোমাদের মতো দেশে ভবিষ্যতে চাকরি হলে ভালো হবে। আমরা হেরে এসেছি। কোচ ও খেলোয়াড়দের কেউ সমালোচনা করে না, সংবাদমাধ্যম সভাপতিকে নিয়ে পড়ে আছে। এটাই বিশ্বে একমাত্র দেশ, যেখানে সভাপতিকে দোষারোপ করা হয়েছে। কেউ কোচ কিংবা খেলোয়াড়কে প্রশ্ন করে না।’
বাফুফের দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে সালাউদ্দিনের ব্যাখ্যা, ‘দুর্নীতি নিয়ে যারা কথা বলে তাদের কাছে প্রশ্ন। এজিএমে দুইজন কথা বলে, গোটা ফেডারেশন, জেলা ও ক্লাবের ১৪০ জনই কি তাহলে মিথ্যুক? এই দুইজনই সত্যবাদী। আপনারা কেন দেখতে চান না ফিফা-এএফসির অনুমোদিত রিপোর্ট, এজিএমের অনুমোদিত রিপোর্ট। কই উনারা? এজিএমের পরদিন ওনারা পালিয়ে যান কেন? এটাই আপনারা বড় করে তুলে ধরেছেন, প্রমাণ করেন না। এতদিন কেন প্রমাণ করতে পারেননি? এএফসি-ফিফাকে চোর বলতে চান। তাহলে বাংলাদেশে ১৪০ জন কাউন্সিলর চোর। খালি একটা লোক ফেরেশতা। এই প্রশ্ন তাদের করা উচিত।’








