ম্যাচ শেষে হার্নান বার্কোস এক চোখ বন্ধ রেখে হাত সামনের দিকে নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ‘জলদস্যু’র মতো এমন উদযাপনের জন্য তাকে ‘এল পিরাতা’ ডাকা হয়। বার্কোস একাই নন, বসুন্ধরা কিংসের সব খেলোয়াড়কেই এমন উদযাপন করতে দেখা গেছে।
এএফসি কাপে অভিষেক ম্যাচে ক্লাব ও বার্কোসের এমন যুগলবন্দিতে বড় জয় এসেছে। মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসকে ৫-১ গোলে ধসিয়ে দেয়ার স্মৃতিটা একেবারেই তরতাজা। যেখানে বার্কোস একাই করেছেন চার গোল! এমন স্ট্রাইকার পেয়ে সতীর্থরা উচ্ছ্বসিত।
দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড বিপলু আহমেদের মুখে বার্কোসের প্রশংসা,‘এএফসি কাপে আমার প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেছি। বার্কোস আসায় আমাদের শক্তি বেড়েছে। সে অনেক ভালো খেলোয়াড়। খেলার মধ্যেও অনেক উজ্জীবিত করেছে আমাদের। বন্ধুর মতো মিশে যায়। আবার ভুলত্রুটি সংশোধন করে দিয়েছে।’
বিপলু মনে করেন লিওনেল মেসির সাবেক আর্জেন্টাইন সতীর্থের কাছ থেকে শেখারও আছে অনেক,‘ও আমাদের বলেছে বল কীভাবে ডেলিভারি দিতে পারলে ভালো হয়। আমরা সেটা করার চেষ্টাও করেছি। আমরা শিখতে পারছি তার কাছ থেকে। আসলে ভালো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে শেখারও আছে অনেক কিছু।’
আরেক উইঙ্গার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বললেন,‘বার্কোস তো অনেক ভালো খেলোয়াড়। কালকে তো ওর খেলা সবাই দেখেছে। ম্যাচটি অনেক কঠিন হয়ে যেতো যদি গোল না পেতাম। এমন একজন স্ট্রাইকারের দরকার ছিল। ওর সবদিক ভালো মনে হয়েছে। সব বিষয় শেয়ার করে।’
ঢাকার মাঠে অনেকদিন পর এমন একজন স্ট্রাইকার দেখে বেশ খুশি সাবেক তারকা ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব। ঢাকার লিগে ১০৭ গোল করা জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার বলেছেন,‘অনেক দিন পর ঢাকায় ভালো একজন বিদেশি স্ট্রাইকার দেখতে পেলাম। কলিনদ্রেস আরও ভালো খেলোয়াড়। তার ক্রস ছিল দেখার মতো। বার্কোস হলো স্কোরার। বক্সে বল ফেলতে পারলেই বার্কোস দুর্ধর্ষ।’
প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বে খেলার কথা বার্কোসের। নকীব মনে করছেন লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ আছে তার, ‘লিগের ম্যাচে প্রচুর গোল পাবে বার্কোস। আমাদের স্থানীয় ডিফেন্ডারদের উচ্চতা কম। যে টিমের ডিফেন্স লাইনে বিদেশি খেলোয়াড় আছে,তাদের সঙ্গে খেলতে বার্কোসের কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আর সত্যি বলতে কি কলিনদ্রেস যেভাবে একের পর এক ক্রস করেছে তাতে মনে হয়েছে আমি এখনও খেলতে পারলে গোল করতে পারবো।’








