লা লিগায় দুরন্ত রিয়াল মাদ্রিদ প্রতিযোগিতা পাল্টে চ্যাম্পিয়নস লিগ হতেই বিপরীত মেরুর দল। যে দল এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আসে ন্যু ক্যাম্পে, সেই দলটিই ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তলানিতে থেকে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায়! আর কেউ নয়, রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদানই নকআউট পর্ব নিয়ে দুশিন্তায়। তাই ইন্টার মিলানের বিপক্ষে আগামীকালের (মঙ্গলবার) ম্যাচটিতে ‘ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন ফরাসি কিংবদন্তি।
‘বি’ গ্রুপে ২ খেলায় মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের উদ্বোধনী খেলায় ঘরের মাঠে ৩-২ গোলে হারতে হয় তাদের শাখতার দনেৎস্কের বিপক্ষে। ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে কী, উল্টো আরও বড় লজ্জায় পড়তে যাচ্ছিল বরুসিয়া মুনশেনগ্ল্যাডবাখের মাঠে গিয়ে। ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে যখন হার চোখ রাঙাচ্ছিল, তখন শেষ ৬ মিনিটে ২ গোল করে জয়ের সমান ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে লস ব্লাঙ্কোস।
আগামীকাল ইন্টারের বিপক্ষে হারলে নকআউট পর্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়বে রিয়ালের। তাই ঘরের মাঠের ম্যাচটিকে ‘ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন জিদান। আজ (সোমবার) ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ বলেছেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জানি এবং ম্যাচটি খুব কঠিন। তারা (ইন্টার) ভালো দল এবং শারীরিক শক্তিসম্পন্ন। একই সঙ্গে ভালো ফুটবলও খেলে। আরেকটি কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে। এটা (আমাদের জন্য) ফাইনাল।’
হুয়েস্কার বিপক্ষে লা লিগার সবশেষ ম্যাচ ৪-১ গোলে জিতেছে রিয়াল। ওই ম্যাচে জিদান খেলিয়েছেন তার পছন্দের আক্রমণভাগ- এডেন হ্যাজার্ড, করিম বেনজেমা ও মার্কো আসেনসিওকে, যাদের ইতিমধ্যে ডাকা হচ্ছে ‘এইচবিএ’ নামে। এই ত্রয়ী গ্যারেথ বেল, বেনজেমা ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে গড়া ‘বিবিসি’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন কিনা, এই প্রশ্নও উঠে গেছে।
জিদান বিষয়টির ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘এখানে (রিয়াল মাদ্রিদ) যারা আসে, প্রত্যেকেই ইতিহাস গড়তে চায়। এই তিনজনকে (হ্যাজার্ড, বেনজেমা ও আসেনসিও) নিয়ে যেটা বলা হচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা অবশ্যই দারুণ কিছু করবে। জানি বাইরে স্কোয়াডের পরিবর্তন নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে, তবে আমি দেখছি ভেতরের সবাই জিততে চায় এবং একজন কোচের জন্য এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে।’








